আশা [ আপনার অন্তরের অবস্থা পরিবর্তন করুন ]

0
332

hope

লেখক: ড. খালিদ আবু শাদি | অনুবাদক: হাসান মাসরুর

১. আজকের আলোচ্য বিষয়ের ফায়দা

  • আপনি আল্লাহর ব্যাপারে যেমন ধারণা করবেন, আল্লাহ তাআলা আপনার ব্যাপারে তেমন ইচ্ছা করবেন।

হাদিসে কুদসিতে এসেছে, (আল্লাহ তাআলা বলেন): আমি আমার ব্যাপারে বান্দা যেমন ধারণা করে তেমন আচরণ করি। সুতরাং সে যেন যা ইচ্ছা আমার ব্যাপারে ধারণা করে।‘ [মুসনাদু আহমাদ: ১৬০১৬]

  • আখিরাতের পথযাত্রা হয় শুভ এবং অন্তর আনন্দে ভরে যায়।
  • হতাশ লোকদের হৃদয়ে আশার সঞ্চার হয়। শয়তানের পথ বন্ধ হয়ে যায় ৷ শয়তানই মূলত মুমিনদের অন্তরে হতাশা ও নিরাশার বীজ বপন করে।
  • আল্লাহর মহব্বতের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছা যায়। আল্লাহর প্রতি আপনার যতই আশা বাড়বে, ততই তাঁর প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে। তাঁর প্রতি আপনার সন্তুষ্টিও বৃদ্ধি পাবে।
  • ইমানের উচ্চ মাকাম অর্জন করতে পারবেন। আর সেটি হলো শোকরের মাকাম। কারণ, বান্দা যখন আল্লাহর কাছে যা আশা করেছে তা পাবে, তখন শোকরের দিকে ধাবিত হবে।

২. কুরআনের আলো

আল্লাহ তাআলা বলেন: ”যারা ইমান এনেছে আর যারা হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারা সবাই আল্লাহর রহমত প্রত্যাশা করে। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” [সুরা আল-বাকারা, ২ : ২১৮]

সুতরাং যারা আল্লাহ তাআলার রহমতের আশা করে, তারা হলো ওই সকল লোক, যারা ইমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং জিহাদ করেছে। আর যারা আমল ছাড়াই আশা করে, তারা স্বপ্নে বিভোর আছে । আল্লাহ তাআলা অন্য এক স্থানে ওই সকল লোককে তিরস্কার করেছেন, যারা দুনিয়া অর্জনে ডুবে থাকে, এরপর আল্লাহর কাছে ক্ষমার আশা করে। আল্লাহ তাআলা বলেন: তাদের পর তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে এক (অধম) প্রজন্ম, যারা কিতাবের উত্তরাধিকারী হয়েছে; কিন্তু তারা এই তুচ্ছ জগতের সামগ্রী গ্রহণ করে আর বলে, “আমাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” [সুরা আল-আরাফ, ৭ : ১৬৯]

আল্লাহ তাআলা ওই ব্যক্তিকেও তিরস্কার করেছেন, যে তার রবের হকের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন করেছে: ”আর (আসলেই) যদি আমাকে আমার প্রভুর নিকট ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে (সেখানে) আমি অবশ্যই এরচেয়ে ভালো প্রত্যাবর্তনস্থল পাব।” [সুরা আল-কাহফ, ১৮ : ৩৬]

৩. রাসুল (সা:) আমাদের আদর্শ

  • রাসুল (সা:) তায়িফ থেকে ফিরে এলেন। (তায়িফে) তখন কেউ তাঁর ডাকে ইসলাম গ্রহণ করেনি । তিনি অবনত মস্তকে চিন্তিত অবস্থায় ফিরে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তিনি মাথা উঠিয়ে দেখলেন এক খণ্ড মেঘ তাঁর ওপর ছায়া দিচ্ছে। তিনি সেদিকে তাকিয়ে দেখলেন তাতে জিবরাইল (রা:)। জিবরাইল (রা:) তাঁকে ডাক দিয়ে বললেন, ‘আপনার কওম আপনাকে যা বলেছে, আল্লাহ তাআলা তা শ্রবণ করেছেন এবং তারা যে উত্তর দিয়েছে, তাও তিনি শ্রবণ করেছেন।

তাই তিনি আপনার কাছে পাহাড়ের ফেরেশতাদের পাঠিয়েছেন, যেন আপনি যা চান তাদেরকে আদেশ করেন।’ তখন পাহাড়ের ফেরেশতা তাঁকে সালাম দিয়ে বললেন, ‘হে মুহাম্মাদ, যদি আপনি চান, তাহলে আমি তাদের ওপর দুই পাহাড়কে একসাথে মিলিয়ে দেবো।’ নবিজি (সা:) বললেন, বরং আমি আশা করি তাদের বংশধর থেকে এমন কেউ বের হবে, যে এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবে না।‘ [সহিহুল বুখারি: ৩২৩১] আল্লাহ তাআলা তাঁর নবির এই আশা বাস্তবায়ন করেছেন।

  • রাসুল (সা:) বলেন, ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ—সে সত্তার শপথ, আমি আশা করি, তোমরা জান্নাতের এক-চতুর্থাংশ হবে।’ সাহাবিগণ আনন্দে তাকবির দিয়ে উঠলেন। তিনি বললেন, ‘আমি আশা করি, তোমরা জান্নাতের এক- তৃতীয়াংশ হবে।’ সাহাবিগণ তাকবির দিয়ে উঠলেন। এরপর তিনি বললেন, ‘আমি আশা করি, তোমরা জান্নাতের অর্ধেক হবে।’ তখন সাহাবিগণ আবার তাকবির দিয়ে উঠলেন।‘ [সহিহুল বুখারি: ৩৩৪৮, সুনানুত তিরমিজি: ৩১৬৮]

আল্লাহ তাআলা তাঁর হাবিবের এ আশার চাইতেও বেশি বাস্তবায়ন করেছেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: জান্নাতিদের একশ বিশটি কাতার হবে। এর মাঝে আশিটি কাতার হবে এই উম্মতের মধ্য থেকে এবং অন্যান্য উম্মত থেকে হবে চল্লিশটি।‘ [সুনানুত তিরমিজি: ২৫৪৬, সুনানুদ দারিমি: ২৮৭৭]

রাসুল (সা:) তাঁর রবের কাছে আশা করেছেন অর্ধেকের। এরপর আল্লাহ তাআলা বাড়িয়ে দুই-তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।

৪. অমূল্য বাণী

  • আলি (রা:) বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি গুনাহ করে, আর আল্লাহ দুনিয়াতে তার সে গুনাহ গোপন করে রাখেন, তাহলে সেই গুনাহ আখিরাতেও গোপন রাখা আল্লাহর নীতি। আর যদি গুনাহের কারণে তিনি বান্দাকে দুনিয়াতে শাস্তি দিয়ে দেন, তাহলে সেই কারণে আখরাতে দ্বিতীয়বার শাস্তি না দেওয়া তাঁর সর্বোচ্চ ইনসাফ।’
  • সুফইয়ান সাওরি (রা:) বলেন, ‘আমি চাই না আমার হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আমার পিতামাতার কাছে দেওয়া হোক। কারণ, আমি জানি, আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি তাদের চেয়ে অধিক দয়াশীল।’
  • হাসান (রা:) বলেন, ‘যদি মুমিনগণ গুনাহ না করত, তাহলে তারা আসমান ও জমিনের রাজত্বে উড়ে বেড়াতে পারত; কিন্তু আল্লাহ তাআলা গুনাহের মাধ্যমে তাদের নিবৃত্ত করে রেখেছেন।’
  • সুফইয়ান (রা:) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গুনাহ করে ফেলে, অতঃপর মনে করে এটা তার তাকদিরে ছিল এবং সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা লাভের আশা করে, তাহলে আল্লাহ তার ওই গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’
  • ইবনে মাসউদ (রা:) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন এত পরিমাণ ক্ষমা করবেন, যা কোনো মানুষের হৃদয় কল্পনা করতে পারবে না।’
  • ইয়াহইয়া বিন মুআজ (রা:) বলেন, ‘(হে রব) গুনাহের সাথে আপনার প্রতি আমার আশা আমলের সাথে আপনার প্রতি আমার আশাকে পরাজিত করে । কারণ, আমলের ক্ষেত্রে আমি ভরসা করি ইখলাসের ওপর। আর কীভাবে আমি আমলকে পরিশুদ্ধ ঘোষণা করব এবং তা ধরে রাখব; অথচ আমি বিভিন্ন বিপর্যয়ের মাঝে আছি। আর গুনাহের ক্ষেত্রে আমি ভরসা করি আপনার ক্ষমার ওপর । আর কীভাবে আপনি ক্ষমা করবেন না, যখন আপনি এই গুণে গুণান্বিত।’
  • ইবনে আতা বলেন, ‘যখন আপনি আশার দরজা উন্মুক্ত করতে চান, তখন সেসব বিষয়কে সামনে নিয়ে আসুন, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার কাছে এসেছে। আর যখন ভয়ের দরজা উন্মোচন করতে চান, তখন সেসব বিষয় সামনে নিয়ে আসুন, যা আপনার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে পৌঁছেছে।’
  • আবু কুদামা আল-মাকদিসি (রা:) বলেন, ‘নেক দিলের অধিকারী ব্যক্তিগণ এ কথা জানেন যে, দুনিয়া হলো আখিরাতের শস্যক্ষেত। আর হৃদয় হলো ক্ষেতের মতো। ইমান হলো বীজের মতো। আর দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত হৃদয় হলো অনুর্বর ভূমির মতো, যেখানে বীজ উদগত হয় না। আর কিয়ামতের দিন হলো ফসল কাটার দিন। আর প্রত্যেকে সে ফসলই কাটবে, যা সে বপন করেছে । আর ইমানের বীজ ছাড়া কোনো ফসলই উন্নতি লাভ করবে না। যার হৃদয় নষ্ট হয়ে গেছে এবং যার চরিত্র খারাপ হয়ে গেছে, তার উপকার খুব কম হবে। যেমন অনুর্বর জমিনে বীজ উদগত হয় না।

সুতরাং ক্ষেতের চাষীর মতো বান্দার ক্ষমার আশা করা দরকার। সুতরাং যে একটি উর্বর জমি খুঁজে তাতে ভালো বীজ বপন করেছে এবং সময়মতো তাতে পানির ব্যবস্থা করেছে, জমিনকে যে ঘাস ও পোকামাকড় এবং অন্যান্য ফসল নষ্টকারী জিনিস থেকে মুক্ত রেখেছে, তারপর আল্লাহ তাআলার দয়ার অপেক্ষায় ফসল পরিপক্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন বজ্রপাত ও দুর্যোগ থেকে নিরাপত্তার আশা করে বসে আছে, এই ব্যক্তির আশাকে আশা বলা যায়।

আর যদি কেউ শক্ত অনুর্বর ভূমিতে বীজ ফেলে, যেখানে কোনো পানি পৌঁছে না এবং চাষীও তার কোনো যত্ন নেয় না, তারপরও সে ফসলের আশা করে বসে থাকে, তাহলে তার এই আশা হলো নির্বোধের আশা ও প্রবঞ্চনা।

৫. কিছু চমৎকার কাহিনি

  • আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবিজি (সা:) এক যুবকের নিকট গেলেন। তখন সে মুমূর্ষু অবস্থায় ছিল। তিনি বললেন, “তোমার কেমন অনুভব হচ্ছে?” যুবকটি বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর শপথ, আল্লাহ তাআলার রহমতের আশা করছি; কিন্তু আবার ভয়ও পাচ্ছি আমার গুনাহগুলোর কারণে।” রাসুল (সা:) বললেন, “যে বান্দার হৃদয়ে এ রকম সময়ে এরূপ দুই বিপরীত জিনিস একত্র হয়, আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তার কাঙ্ক্ষিত জিনিস তাকে দান করেন এবং তাকে তার বিপদাশঙ্কা হতে নিরাপদ রাখেন।‘ [সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪২৬১]
  • আব্দুল্লাহ বিন মুবারক (রা:) বলেন, ‘আরাফার সন্ধ্যায় সুফইয়ান সাওরি (রা:)-এর কাছে এলাম। তিনি তখন হাঁটুতে ভর করে উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন এবং তার চক্ষুদ্বয় অশ্রু প্রবাহিত করছিল। আমি তাকে বললাম, ‘এই সমাবেশে কার অবস্থা সবচেয়ে মন্দ?’ তিনি বললেন, ‘যে ধারণা করে যে, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না।’
  • ফুজাইল বিন ইয়াজ (রা:) আরাফার সন্ধ্যায় মানুষের তাসবিহ পাঠ এবং তাদের কান্নার প্রতি খেয়াল করলেন। তিনি বলেন, ‘তোমাদের কি ধারণা যে, যদি তারা একজন লোকের কাছে গিয়ে একটি দানিক (ছোট মুদ্রাবিশেষ) চায়, তাহলে সে তাদেরকে ফিরিয়ে দেবে?’ তারা বলল, ‘না।’ তিনি বললেন, ‘এক দানিকের ব্যাপারে কারও সাড়া প্রদানের চেয়ে আল্লাহর কাছে বান্দাদের ক্ষমা করে দেওয়া আরও সহজ ব্যাপার।’

৬. রমাদানে আশা

রমাদান হলো আশার মাস। এ মাস ক্ষমা ও মাগফিরাতের আশার মাস। জাহান্নাম থেকে মুক্তির আশার মাস। রহমত ও জান্নাতের আশার মাস। প্রতিদান ও আমল কবুল হওয়ার আশার মাস। এ সবগুলোই হলো আশার দরজা খোলার মাধ্যম; যেন বান্দার হৃদয় আল্লাহর নুরে আলোকিত হয়।

৭. দুআ

  • হে আল্লাহ, আমি আপনার রহমত প্রত্যাশা করি। সুতরাং আমাকে এক মুহূর্তের জন্যও নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না। আমার সকল অবস্থা সংশোধন করে দিন। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।
  • হে আল্লাহ, আমরা আপনারই ইবাদত করি এবং আপনার জন্যই সালাত আদায় করি এবং আপনাকেই সিজদা করি। আপনার দিকেই ছুটে যাই এবং আপনার কাছেই সাহায্য প্রত্যাশা করি। আপনার কাছেই রহমতের আশা করি। আপনার আজাবকে ভয় করি। নিশ্চয় আপনার কঠিন আজাব কাফিরদের সাথে সংযুক্ত
  • হে আল্লাহ, আমার হৃদয় আপনার আশার মাধ্যমে পূর্ণ করে দিন এবং অন্যদের থেকে আমার আশা দূর করে দিন।

৮. আশার সূর্য ডুবে গেছে

আমাদের অনেকের মাঝে, বিশেষ করে অবাধ্যদের মাঝে নিম্নের বিষয়গুলো ছড়িয়ে পড়েছে :

  • আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যাওয়া।
  • নফসের পরিবর্তনের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যাওয়া।
  • মন্দ অভ্যাস বা কঠিন কোনো গুনাহ থেকে মুক্তির ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়া।
  • উম্মাহর বাস্তব পরিবর্তনের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যাওয়া।

৯. যথেষ্ট কথা হয়েছে, এখন কাজ দেখার বিষয়

  • আমি আল্লাহর কাছে দুআ কবুলের আশা নিয়ে দুআ করব।
  • আমার নিজের অন্তরে এবং পার্শ্ববর্তী লোকদের অন্তরে আশার আলো ছড়িয়ে দেবো। আলি বিন আবু তালিব (রা:) বলেন, ‘আলিম হলো ওই ব্যক্তি, যে মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না এবং তাদেরকে আল্লাহর আজাবের ব্যাপারে বেপরোয়াও করে দেয় না।’

১০. স্বার্থপর হবেন না

  • কথাগুলো আপনার মসজিদের মুসল্লি ও আপনার সহপাঠী-সহকর্মীদের মাঝে আলোচনা করুন।
  • এই বইটি নিজে পাঠ করে অন্যদেরকেও পড়তে দিন; যেন তারা এর থেকে উপকৃত হতে পারে।
  • মসজিদের ইমামকেও বইটি হাদিয়া দিতে পারেন; যেন তিনি জুমআর খুতবা বা তারাবিহ-পরবর্তী আলোচনায় এর থেকে ফায়দা গ্রহণ করতে পারেন।

আশাবাদী হোন…

সর্বশেষ…

এ মাসের দিনগুলো খুব দ্রুত চলে গেছে!

আপনার পরিবর্তন কতটুকু হয়েছে?

আপনার টার্গেটগুলো কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে?!

আপনি কি এ মাসে যথাযথভাবে সিয়াম পালন করেছেন?

আপনি কি এই ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর যে ইচ্ছা, তা বাস্তবায়ন করেছেন?

আপনি কি মনে করেন যে, আমাদের সকল অবস্থা এবং হতাশার এই চাকা ও আপতিত এই লাঞ্ছনাসমূহ আল্লাহ তাআলার পরিবর্তন করা আপনার ওপর নির্ভর করে!!

হ্যাঁ, পুরো উম্মাহর পরিবর্তন আপনার হাতে… আপনার মাধ্যমেই পরিবর্তন হবে!!

সুতরাং যদি আপনার হৃদয় পরিবর্তিত হতো, আপনার কর্মের পরিবর্তন ঘটত, আপনার চরিত্র উন্নত হতো এবং আল্লাহ তাআলা যা ভালোবাসেন তার সর্বোত্তম দিকে তা ধাবিত হতো ৷

কিন্তু আমি ‘যদি’ বলব কেন?!

আপনি তো সাথে সাথেই পরিবর্তন হয়ে গেছেন এবং রমাদানের পর রমাদানের চেয়েও উত্তম হয়ে গেছেন ।

হ্যাঁ,

আল্লাহ তাআলা অচিরেই আপনার পাঠে বরকত দান করবেন।

মাস শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও আপনার আনুগত্যের এই ফলাফল বাকি থাকবে।

আল্লাহ তাআলা আপনার আশাকে নষ্ট করবেন না।

আপনার মতো লোকদেরকে আল্লাহ লাঞ্ছিত করবেন না।

বরং আপনি কয়েকগুণ বেশি সাওয়াব পাবেন।

আর আমি এ ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

নেক কাজগুলোর সাওয়াব দশ থেকে সাতশ বা তার চেয়ে বেশি গুণে বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়।

আপনি পরিবর্তনের জন্য যে পদক্ষেপই গ্রহণ করবেন, আল্লাহ তাআলা তাতে আপনাকে তাওফিক দেবেন। তার ওপর বহুগুণে সাহায্য থাকবে।

আপনাদের কেউ যেন নিজেকে তুচ্ছ না মনে করে।

কত জাতিই তো পরিবর্তন হয়ে গেল এবং তারা সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছে এবং বিজয়ও লাভ করেছে !

আর এসব কিছুর পেছনেই তো একটি হৃদয় কাজ করে।

আপনি নিজেকে নিয়ে যেমন কল্পনা করেন, আপনি তার চেয়ে বড়।

আল্লাহ তাআলা আপনার মাঝে যে সক্ষমতা দান করেছেন, তা সীমাবদ্ধ নয়।

আপনার সামর্থ্যকে কোনো ছাদ আচ্ছাদিত করে রাখতে পারবে না।

সুতরাং সামনে অগ্রসর হোন, আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন।

আল্লাহ তাআলার সামনে নিজের পক্ষ থেকে চেষ্টা-প্রচেষ্টা প্রদর্শন করুন।

আমাদের গাজার ভাইদের কাছে আশার বার্তা প্রেরণ করুন।

ইহুদিদের হৃদয়কে ক্রোধে পূর্ণ করে দিন।

তারা আমাদেরকে চরিত্র, কর্ম, দৃঢ়তা, আশা, সভ্যতা ও জাগরণে আরও উত্তম হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করছে।

আপনি নিজের সামনে এগুলো ঘোষণা করুন…

এগুলো কোনো সাময়িক বিষয় নয়, যা কিছু দিন পর চলে যাবে।

আমি পানির এমন ঝরনা হব না, যা কিছু দিন পর শুকিয়ে যাবে।

বরং (এমন হব যে) আমার অনুভূতি সব সময় জাগ্রত থাকবে।

আমি সব সময় আল্লাহর কাছে আমার অবিচলতা প্রার্থনা করব।

আল্লাহ তাআলা আমার ব্যাপারে অবগত এবং তিনি আমাকে সাহায্য করবেন।

মহান সত্তা আমাকে কখনো লাঞ্ছিত করবেন না।

তিনি সর্বোত্তম অভিভাবক ও সর্বোত্তম সাহায্যকারী।

উৎস: রমাদান-আত্মশুদ্ধির বিপ্লব, পৃষ্ঠা: ২৯৪ – ৩০৪

Print Friendly, PDF & Email
Banner Ad


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Whatsapp, Telegram, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। ইসলামি দা’ওয়াহ্‌র ৮০ টিরও বেশী উপায়! বিস্তারিত জানতে এইখানে ক্লিক করুন "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

দ্বীনী খিদমায় অংশ নিন

আপনার মন্তব্য লিখুন