দুশ্চিন্তা পরিহার করুন

0
32

লেখকঃ ড. আয়িদ আল করনী | অনুবাদঃ ডা. হাফেজ মাওলানা মােহাম্মদ নূর হােছাইন

দুশ্চিন্তা পরিহার করুন দুঃখিত হবেন না, কেননা আপনার প্রতিপালক বলেন:- (হে মুহাম্মদ), আমি কি আপনার বক্ষ আপনার কল্যাণে প্রশস্ত করে দেইনি?” [৯৪-সূরা আল ইনশিরাহ : আয়াত-১]

এ আয়াতের সংবাদ যারা হক্বপন্থী, যারা নূরের পথে চলে এবং যারা হিদায়াতের পথে চলে তাদের সবার জন্য প্রযােজ্য।

যার অন্তর আল্লাহ ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন, ফলে সে তার প্রভুর নূরের পথে চলে তবে কি সে ব্যক্তি (কাফেরের মতাে)? অতএব, সে সব কঠোর আত্মার ললাকেরা অভিশপ্ত-যারা আল্লাহর জিকিরে, বিমুখ।” [৩৯-সূরা আয যুমার : আয়াত-২২]

সুতরাং, এমন সত্য বিষয় আছে, যা অন্তরকে প্রশস্ত করে এবং এমন অসত্য বিষয় আছে, যা অন্তরকে কঠোর করে।

আর আল্লাহ যাকে হিদায়াত করতে চান, তার অন্তরকে তিনি ইসলামের জন্য প্রশস্ত করে দেন।” [৬-সূরা আল আন’আম : আয়াত-১২৫]

অতএব, এ ধর্ম গ্রহণ করা ও এর উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা এক কাঙ্ক্ষিত ও বাঞ্ছিত বিষয়, যা অনুগ্রহপ্রাপ্ত ও ধন্য লােক ছাড়া অন্য কেউ লাভ করতে পারে না।

দুশ্চিন্তা, দুর্ভাবনা ও ভয় করাে না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। [৯-সূরা তাওবা : আয়াত-৪০]

যে সব (ঈমানদার) লোেকদেরকে (কাফের) লােকেরা বলেছিল, অবশ্যই (কাফের) লােকেরা তােমাদের (বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার) জন্য জমায়েত হয়েছে, অতএব, তােমরা মুমিনগণ) সেই (কাফের) লােকদেরকে ভয় কর। এতে তাদের ঈমান আরাে বৃদ্ধি পেল এবং তারা বলল, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক!” [৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৭৩]

আল্লাহর রক্ষণাবেক্ষণ, অভিভাবকত্ব ও করুণাতে যাদের ঈমান বা বিশ্বাস আছে তারা (উপরােক্ত) এই আয়াতের এই কথা (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতইনা উত্তম কর্মবিধায়ক!) বলে।

আমাদের পক্ষে তার যথেষ্ট হওয়া আমাদেরকে অন্যদের উপর নির্ভর করা থেকে মুক্তি দেয় এবং তার অভিভাবকত্ব আমাদেরকে রক্ষা করে।

হে নবী মুহাম্মদ), আপনার জন্য এবং যেসব মুমিন আপনাকে অনুসরণ-অনুকরণ করে ও আপনাদের আনুগত্য করে তাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।” [৮-সূরা আনফাল : আয়াত-৬৪]

এবং সেই চিরঞ্জীবের উপর নির্ভর (তাওয়াক্কুল) কর, যিনি মৃত্যুবরণ করবেন না।” [২৫-সূরা আল ফুরকান : আয়াত-৫৮]

এবং (হে মুহাম্মদ) ধৈর্য ধরুন, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া আপনার ধৈর্য ধরা সম্ভব নয় এবং তাদের নিয়ে দুঃখ করবেন না। আর তারা যে চক্রান্ত করে তাতে কষ্ট পাবেন না। অবশ্যই আল্লাহ মুত্তাকী এবং সঙ্কর্মপরায়ণদের সাথে আছেন।” [১৬-সূরা আন নাহল : আয়াত-১২৭-১২৮]

এ আয়াতে আল্লাহ তাদের সাথে আছেন’ এ কথা দ্বারা তার অনুগত বান্দাদের রক্ষণাবেক্ষণ, যত্ন, সমর্থন ও অভিভাবকত্বের এক বিশেষ রহমতের কথা বুঝানাে হয়েছে। আর তাদের ঈমান, আমল ও চেষ্টার পরিমাণ মাফিকই তারা এই কল্যাণ লাভ করবে।

অতএব, তােমরা (শত্রুদের বিরুদ্ধে) দুর্বল হয়াে না এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্তও হয়েআর তােমরাই (বিজয়ী হয়ে) শ্রেষ্ঠ হবে- যদি তােমরা (সত্যিকার) মুমিন হয়ে থাক।” [৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১৩৯]

সামান্য কষ্ট দেয়া ছাড়া তারা তােমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আর যদি তারা তােমাদের সাথে যুদ্ধ করে তবে তারা তােমাদেরকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে। অতঃপর তাদেরকে কোনও সাহায্য করা হবে না।” [৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১১১]

আল্লাহ সিদ্ধান্ত করেছেন যে, অবশ্যই আমি এবং আমার রাসূলগণই বিজয়ী হবে। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশক্তিমান ও মহাপরাক্রমশীল।” [৫৮-সূরা আল মুজাদালা : আয়াত-২১]

নিশ্চয় আমি আমার রাসূলদেরকে আর মুমিনদেরকে পার্থিব জীবনে এবং যে দিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে সেদিন সাহায্য করব।” [৪০-সূরা আল মু’মিন : আয়াত-৫১]

আর আমি আমার বিষয় আল্লাহর নিকট সমর্পণ করছি। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি রাখেন। তাই আল্লাহ্ তাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করলেন।” [৪০-সূরা আল মু’মিন : আয়াত-৪৪-৪৫]

এবং আল্লাহর উপরই যেন মুমিনগণ নির্ভর করেন।” [৩-সূরা আলে ইমরান : আয়াত-১২২]

উৎসঃ লা তাহযান [হতাশ হবেন না], ক্রমিক নংঃ ৪৬, পৃষ্ঠা: ১১৪ – ১১৬

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

আপনার মন্তব্য লিখুন