Home বিষয় আখলাক | ব্যক্তিত্ব সর্বোত্তম হালাল রিযিক পর্ব ১

সর্বোত্তম হালাল রিযিক পর্ব ১

1
235

লেখক: জাকের উল্লাহ আবুল খায়ের | সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

পর্ব ১ | পর্ব ২

জীবিকা নির্বাহের জন্য হালাল উপার্জনের কোনো বিকল্প নেই। বেঁচে থাকার তাগিদে অবশ্যই আমাদের হালাল রুযীর অন্বেষণ করতে হয়। ইসলাম মানুষকে এ কথা কখনো বলে নি যে, তোমরা মসজিদে বসে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ কর, চেষ্টা ও মেহনত করার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং ইসলামের নির্দেশনা হলো, সালাত আদায় করা, সাওম পালন করা এবং হজ করা যেমন ইবাদত, হালাল রুযী কামাই করাও অনুরূপ ইবাদত। সালাত, সাওম ও হজ করা যেমন ফরয, হালাল ও বৈধ পন্থায় কামাই-উপার্জন করাও ফরয। উক্ত প্রবন্ধে হালাল রুজি অন্বেষণের পদ্ধতি আলোজনা করা হয়েছে।

জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য হালাল উপার্জনের কোনো বিকল্প নেই। রুযী-রোজগার ছাড়া দুনিয়ার জীবনে বেঁচে থাকা অসম্ভব। বেঁচে থাকার তাগিদে অবশ্যই আমাদের হালাল রুযীর অন্বেষণ করতে হয়। ইসলাম মানুষকে এ কথা কখনো বলে নি যে, তোমরা মসজিদে বসে ‘আল্লাহ’ ‘আল্লাহ’ কর, তোমাদের দায়িত্ব আল্লাহই গ্রহণ করবে এবং জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য কামাই-রুযী করা, চেষ্টা ও মেহনত করার কোনো প্রয়োজন নেই; বরং ইসলামের নির্দেশনা হলো, সালাত আদায় করা, সাওম পালন করা এবং হজ করা যেমন ইবাদত, হালাল রুযী কামাই করাও অনুরূপ ইবাদত। সালাত, সাওম ও হজ করা যেমন ফরয, হালাল ও বৈধ পন্থায় কামাই-উপার্জন করাও ফরয। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “সালাত শেষ হওয়ার পর তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর ফযল (রিযিক) অন্বেষণ কর।” [সুরা আল-জুমু‘আ, আয়াত: ৯]

মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতির জন্য জমিনে বিভিন্নভাবে রিযিকের ব্যবস্থা করেছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে, ক্ষেত-খামার, চাকুরি, ফল-মূল ইত্যাদির মানব জাতির রিযিকের ব্যবস্থার বিভিন্ন উপকরণ। এ সবের মাধ্যমেই মানুষ তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করে থাকে। আল্লাহ জমিন যেমন বিস্তৃত তার জমিনের কর্মেরও কোনো অভাব নেই। মানুষের ইচ্ছা ও আগ্রহ থাকলে সে অবশ্যই কোনো না কোনো কর্ম খুঁজে পাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আর অবশ্যই আমরা তো তোমাদেরকে জমিনে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তোমাদের জন্য তাতে রেখেছি বিভিন্ন ধরনের জীবনোপকরণ। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞ হও।” [সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১০]

আল্লাহর জমিনে কর্মক্ষেত্র আল্লাহ তা‘আলা মানুষের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। যে কোনো কর্মই হোক না কেন তা মানুষের হাতের নাগালেই। মহান আল্লাহই মানুষের জন্য জমিনে রিজিকের বিভিন্ন উপকরণ দিয়েছেন। তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহের জন্য রিযিকের সব মাধ্যমকে সহজ করেছেন। যাতে মানুষ সহজেই তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। আল্লাহর দেওয়া সুযোগকে কাজে লাগাতে পারে। আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন: “তিনিই তো তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিজিক থেকে তোমরা আহার কর। আর তাঁর নিকটই পুনরুত্থান।” [সূরা আল-মুলক, আয়াত: ১৫]

আয়াতে একটি কথা স্পষ্ট করা হয়েছে, দুনিয়াতে তুমি তোমার জীবন পরিচালনার জন্য যত কিছুই করো না কেন, এ দুনিয়াই তোমার শেষ ঠিকানা নয়। যত কামাই-রুযী করো না কেন, তা তোমার স্থায়ী কোনো সম্পদ নয়। তোমাকে অবশ্যই একদিন এ দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে। আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। সেদিন তোমাকে অবশ্যই তোমার কামাই-রুযী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। আল্লাহর সামনে হিসাব দিতে হবে কোথায় থেকে উপার্জন করলে এবং কোথায় ব্যয় করলে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কিয়ামতের দিন পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া ছাড়া কোনো বান্দা পা নাড়াতে পারবে না। তার মধ্যে একটি প্রশ্ন হলো, “সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছে।[1]

সুতরাং মনে রাখতে হবে, তোমার উপার্জিত সম্পদ কি বৈধ নাকি অবৈধ তার উত্তর তোমাকে অবশ্যই দিতে হবে। এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর তোমাকে দুনিয়াতে থাকতেই তৈরি করতে হবে। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা কোনটি হালাল আর কোন হারাম তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। হালাল খেতে নির্দেশ দিয়েছেন আর হারাম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “হে রাসূলগণ, তোমরা পবিত্র ও ভালো বস্তু থেকে খাও এবং সৎকর্ম কর। নিশ্চয় তোমরা যা কর সে সর্ম্পকে আমি সম্যক জ্ঞাত।” [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ৫১]

নু‘মান ইবন বাশির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “অবশ্যই কোনটি হালাল, তা স্পষ্ট এবং কোনটি হারাম তাও স্পষ্ট। আর হারাম ও হালালের মাঝে কিছু সংশয়যুক্ত বস্তু রয়েছে, যা হারাম কি হালাল, তা অধিকাংশ মানুষই জানে না। যে ব্যক্তি সংশয়যুক্ত বস্তু থেকে পরহেজ করবে, সে তার দীনদারী ও ইজ্জত সম্ভ্রমের হিফাযত করল। আর যে সন্দেহযুক্ত বিষয়গুলো হতে বেচে থাকল না, সে হারামেই পতিত হলো। যেমন, একজন রাখাল, সে সংরক্ষিত এলাকার পাশে তার পশু চরালে তাতে সমূহ সম্ভাবনা থাকে যে, তার পশুটি সংরক্ষিত এলাকা থেকে ভক্ষণ করবে। আর মনে রাখবে, প্রত্যেক রাজা-বাদশাহরই সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। আল্লাহর সংরক্ষিত এলাকা হলো, নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ। আরও স্মরণ করবে, মানবদেহে একটি গোশতের টুকরা রয়েছে। এ টুকরাটি যতক্ষণ ভালো থাকবে, ততক্ষণ তার সমগ্র দেহই ভালো থাকবে। আর গোশতের টুকরাটি যখন খারাপ হয়ে যাবে, তখন পুরো দেহ-ই খারাপ হয়ে যাবে। আর সেটি হলো মানবাত্মা।[2]

এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস। এ হাদীসে হারাম হালাল সম্পর্কে একটি দিক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে। তবে কিছু বিষয় আছে যেগুলো হারাম কি হালাল তা অধিকাংশ মানুষ জানে না। আল্লাহ তা‘আলা যাদের কুরআন ও হাদীসের গভীর ইলম দিয়েছেন তারাই জানেন। তবে এসব সংশয়যুক্ত বিষয় থেকে বেঁচে থেকে নিরেট হালাল বস্তু ভক্ষণ করার প্রতি হাদীসে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়।

হালাল উপার্জন ছাড়া হালাল ভক্ষণ কখনোই চিন্তা করা যায় না। উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন জীবিকার অন্বেষণ ছেড়ে অলস বসে না থাকে।[3]

পর্ব ১ | পর্ব ২


[1] তিরমিযী, হাদীস নং ২৪১৬।

[2] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৯৯।

[3] কানজুল উম্মাল, খণ্ড ২।

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

1 COMMENT

আপনার মন্তব্য লিখুন