দানশীলতা

0
35

লেখক: ড. খালিদ আবু শাদি | অনুবাদক: হাসান মাসরুর

১. আজকের আলােচ্য বিষয়ের ফায়দা

  • পুণ্য অর্জন : আল-বিররু (পুণ্য) শব্দটি সব ধরনের কল্যাণের অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেন : যতক্ষণ না তােমরা তােমাদের পছন্দের জিনিস থেকে ব্যয় করবে, ততক্ষণ তােমরা পুণ্যের নাগাল পাবে না। আর তােমরা যা কিছু ব্যয় করাে, আল্লাহ তা ভালাে করে জানেন।” [সুরা আলি ইমরান, ৩ : ৯২]
  • আল্লাহর দানের সামনে নিজেকে পেশ করা : যদি আপনি আপনার ভাইয়ের প্রতি দানশীল হন, তাহলে সে নিজের সীমিত শক্তি ও সম্পদ দিয়ে আপনার প্রতিও দানশীল হবে। তাহলে চিন্তা করুন, আপনার সাথে সর্বোচ্চ দানশীল সত্তার আচরণ কেমন হবে? অথচ তিনি হলেন সে সত্তা, যার কাছে থাকা নিয়ামতরাজিকে কোনাে আকল উপলব্ধি করতে পারে না এবং দানের ফলে তার ধনভান্ডার ফুরিয়ে যায় না।

এমন কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে? (তাহলে) আল্লাহ তা তার জন্য অনেকগুণ বাড়িয়ে দেবেন। আল্লাহ তােমাদের সম্পদ) কমাতেও পারেন, বাড়াতেও পারেন। আর তারই কাছে তােমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে।” [সুরা আল-বাকারা, ২: ২৪৫]

  • জান্নাতের কক্ষসমূহের বাসিন্দা হতে পারা :

রাসুল (সাঃ) বলেন : ‘নিশ্চয় জান্নাতে এমন কিছু কক্ষ রয়েছে, যার ভেতর থেকে বাইরের দৃশ্য এবং বাইর থেকে ভেতরের দৃশ্য অবলােকন করা যাবে।’ জনৈক বেদুইন জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসুল, এগুলাে কার জন্য?’ তিনি বললেন, এগুলাে সে ব্যক্তির জন্য, যে উত্তম কথা বলে, (অনাহারীকে) আহার করায়, সালামের প্রচার করে এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন রাতের বেলা সে সালাত আদায় করে।‘ [ইবনুস সুন্নি কৃত আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ : ৩১৯]

  • মৃত্যুর পরও ফলাফল বাকি থাকা : রাসুল (সাঃ) বলেন : ‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার তিনটি আমল ব্যতীত সকল আমল বন্ধ হয়ে যায় : (তন্মধ্যে একটি হলাে সদাকায়ে জারিয়া…।‘ [সহিহু মুসলিম : ১৬৩১]
  • ফেরেশতাদের দুআ অর্জনের মাধ্যমে সফলতা লাভ করা :

রাসুল (সাঃ) বলেন : ‘বান্দারা যেদিনই সকালে উপনীত হয়, সেদিনই দুজন ফেরেশতা জমিনে অবতরণ করেন—তাদের একজন বলেন, “হে আল্লাহ, দানকারীকে তার দানের উত্তম বদলা দিয়ে দিন।” এবং অপরজন বলেন, “হে আল্লাহ, কৃপণকে ধ্বংস করে দিন।” [সহিহুল বুখারি : ১৪৪২]

২. কুরআনের আলাে

আল্লাহ তাআলা বলেন : “তােমরা যা কিছু ব্যয় করাে, তিনি তা আবার দিয়ে দেন (তার বিনিময় দিয়ে তা পুষিয়ে দেন)। তিনি শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।” [সুরা সাবা, ৩৪ : ৩৯]

ব্যয়কারী যা দান করে, আল্লাহ তাকে তার চেয়ে উত্তম জিনিস বিনিময়স্বরূপ দিয়ে দেন। দুনিয়াতে তার জন্য বিকল্প দিয়ে দেন এবং আখিরাতে রয়েছে সাওয়াব ও উত্তম প্রতিদান। এখানে গােপন অর্থ হলাে, যদি তােমরা ব্যয় না করাে, তাহলে কীভাবে তিনি বিকল্প দান করবেন এবং তােমাদের সম্পদ বাড়িয়ে দেবেন?

এ কারণেই বর্ণিত আছে, জোগান অনুযায়ী আসমান থেকে সাহায্য নাজিল হয়। যে বিকল্প পাওয়ার ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে, সে সর্বোত্তম জিনিস দান করে।

এই প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে পেছনে উল্লেখিত আয়াতে আল্লাহ তাআলা তিনটি তাকিদ বা নিশ্চয়তা উল্লেখ করেছেন :

  • আল্লাহ তাআলা নিজের ওপর সাথে সাথেই প্রতিদান প্রদান আবশ্যক করে নিয়েছেন। আল্লাহ বলেন : তিনি তা আবার দিয়ে দেন।
  • শব্দটি ব্যাপকতাকে শামিল করে। সুতরাং যেকোনাে ধরনের জিনিস আপনি ব্যয় করতে পারেন; চাই তা সম্পদ হােক, খাবার হােক বা মর্যাদা অথবা শ্রম, অথবা যত ছােট জিনিসই হােক না কেন, মানুষ যাকে তুচ্ছ মনে করে এবং যত বড় জিনিসই হােক না কেন, মানুষ যাকে খুব বড় মনে করে।
  • আল্লাহ তাআলা বলেন : তিনি শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা। [সুরা সাবা, ৩৪ : ৩৯]

আল্লাহ তাআলাই একক রিজিকদাতা এবং রিজিক দানে তার সাথে কেউ শরিক নেই। এতে এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, অন্যের মাধ্যমে যে রিজিক পৌছে, তা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যা তিনি নিজের কতক মাখলুকের হাতের ওপর দিয়ে পরিচালিত করছেন।

৩. রাসুল (সাঃ) আমাদের আদর্শ

  • জনৈক মহিলা একটি চাদর নিয়ে রাসুল (সাঃ)-এর কাছে আসলাে। সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনাকে এটি পরার জন্য দিলাম।’ তিনি চাদরখানা এমনভাবে গ্রহণ করলেন, যেন এটি তার দরকার ছিল। এরপর তিনি এটি পরলেন। সাহাবিদের মধ্যে এক ব্যক্তি সেটি তার দেহে দেখে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, এটি কতই না সুন্দর! আপনি এটি আমাকে দিয়ে দিন। নবিজি (সাঃ) বললেন, হ্যা (দিয়ে দেবাে)। নবিজি (সাঃ) এ উঠে চলে গেলে সাহাবিগণ লােকটিকে দোষারােপ করে বললেন, তুমি ভালাে কাজ করােনি। যখন তুমি দেখলে যে, এটি তার প্রয়ােজন ছিল বলেই তিনি এমনভাবে গ্রহণ করেছেন। এরপরেও তুমি এটি চাইলে। অথচ তুমি অবশ্যই জানাে যে, তাঁর কাছে কোনাে জিনিস চাওয়া হলে তিনি কখনাে কাউকে বিমুখ করেন না। তখন সেই ব্যক্তি বলল, নবিজি (সাঃ) এটি পরেছেন বলেই তাে আমি তার বরকত লাভের জন্য এমনটি করেছি, যাতে এ চাদরে আমার কাফন হয়। এরপর সে মারা গেলে এটিই তার কাফন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। [সহিহুল বুখারি : ৬০৩৬, তাবারানি (রাঃ) কৃত আল-মুজামুল কাবির : ৫৭৮৫]
  • জনৈক লােক নবিজি (সাঃ)-এর নিকট এসে কিছু চাইল। তিনি তাকে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী সবগুলাে বকরি দিয়ে দিলেন। লােকটি সত্যবাদী ছিল। সে খুব দ্রুত এগুলাে নিয়ে কেটে পড়ল এবং বারবার পেছনের দিকে এই ভয়ে তাকাতে লাগল যে, নবিজি (সাঃ) নিজের দানের হুকুম ফিরিয়ে নিতে পারেন।

আরবের বেদুইনদের মাঝে এমন দানের খুব প্রভাব পড়ত। এমনকি আনাস (রাঃ) বলেন : ‘যদিও কোনাে লােক দুনিয়ার উদ্দেশ্যেই ইসলাম গ্রহণ করত; কিন্তু কিছুদিন পর তার কাছে ইসলাম দুনিয়া ও দুনিয়ার ভেতর যা কিছু আছে, তার মাঝে সর্বোত্তম জিনিস হয়ে যেত।‘ [সহিহু মুসলিম : ২৩১২]

৪. রমাদানে দানশীলতা

রমাদান হলাে দান ও বদান্যতার মাস। এ মাসে মানুষের অন্তর স্বাভাবিকভাবেই দানশীলতার প্রতি আকৃষ্ট থাকে। তাই তারা অন্যের প্রতি উদারতা দেখায়। আর তারা আশা করে যে, আল্লাহ তাআলাও তাদের সাথে অনুরূপ আচরণ করবেন। তারা অভাবীদের প্রতি ইহসান করে এই আশায় যে, আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি এরচেয়ে মূল্যবান ইহসান করবেন। রমাদানে শয়তান আবদ্ধ থাকার কারণে তারা নেক কাজের দিকে পূর্ণ শক্তিতে ছুটে চলে। এমন সব আমলের জন্য উঠে দাঁড়ায়, যা তাকে পরিশুদ্ধ ও পবিত্র করবে। সহিহাইনে বর্ণিত হয়েছে যে,

নবিজি (সাঃ) সর্বোত্তম দানবীর ছিলেন। তবে তিনি রমাদান মাসে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। [সহিহুল বুখারি : ৩৫৫৪]

৫. কিছু চমৎকার কাহিনি

  • ঋণ মাফ করে দেওয়া :

কাইস বিন সাদ বিন উবাদাহ (রাঃ)  ছিলেন প্রসিদ্ধ দানশীল ব্যক্তিদের একজন। তিনি একদা অসুস্থ হয়ে পড়লে তার কিছু সাথি তার সাথে দেখা করতে বিলম্ব করছিল। তিনি তাদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তাকে বলা হলাে যে, তারা তার কাছে ঋণী হওয়ার কারণে লজ্জায় দেখা করছে না। তিনি বললেন, আল্লাহ এমন সম্পদকে লাঞ্ছিত করুন, যা ভাইদেরকে সাক্ষাৎ থেকে বারণ করে। এরপর তিনি একজন ঘােষককে ডেকে ঘােষণা দিতে বললেন যে, যে কাইসের কাছে ঋণী আছে, সে ওই ঋণ থেকে মুক্ত। এই ঘােষণার পর সেদিন সন্ধ্যা নাগাদ সাক্ষাকারীদের ভিড়ের ফলে তার ঘরের দরজার কপাট ভেঙে গেল।

  • এমনই হয়ে যান :

ইবরাহিম বিন বাশশার বলেন, আমি ইবরাহিম বিন আদহামের সাথে ত্রিপুলি নামক একটি এলাকায় গেলাম। আমার সাথে দুটি রুটি ছিল। এ ছাড়া আমাদের কাছে আর কিছু ছিল না। এমন সময় হঠাৎ এক ভিক্ষুক এসে কিছু চেয়ে বসল। তিনি আমাকে বললেন, “তােমার কাছে যা আছে, তা এই লােকটিকে দিয়ে দাও।” আমি কিছুক্ষণ নীরব দাঁড়িয়ে রইলাম। তিনি বললেন, “তােমার কী হলাে? সাথে যা আছে, তাকে দিয়ে দাও!” তিনি বলেন, আমি তাকে তা দিয়ে দিলাম। তবে তার কাজ দেখে আমি হতবাক হয়ে গেলাম।

ইবরাহিম বিন আদহাম আমাকে বললেন, “হে আবু ইসহাক, আগামীকাল তুমি আল্লাহ তাআলার সামনে সে জিনিস পাবে, যা কখনাে পাওনি। আর মনে রেখাে, তােমার পেছনে যা করেছ, তার ভিত্তিতেই সেখানে পাবে, যা রেখে গেছ তার ভিত্তিতে নয়। সুতরাং নিজের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাে। কারণ, তুমি জানাে না যে, কখন হঠাৎ তােমার রবের আদেশ চলে আসবে।” ইবনে বাশশার (রাঃ) , বলেন, তার কথায় আমার কান্না চলে আসলাে এবং তিনি আমার সামনে দুনিয়াকে একদম তুচ্ছ হিসেবে পেশ করলেন। যখন তিনি আমার দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে, আমি কান্না করছি, তখন বললেন, ‘বিষয়টি এমনই, সুতরাং তুমি এর মতােই হয়ে যাও!

  • আপনি কি নিজের কথা ভুলে গেছেন?!

মুহাম্মাদ বিন মুনকাদির আয়িশা (রাঃ) -এর কাছে সম্পদের দুটি থলে পাঠালেন, যাতে প্রায় আশি হাজার বা এক লক্ষ দিরহাম ছিল। তিনি একটি প্লেট আনালেন। সেদিন তিনি রােজাদার ছিলেন। তিনি দিরহামগুলাে মানুষের মাঝে বণ্টন করতে শুরু করলেন। সেদিন তিনি সন্ধ্যায় এমতাবস্থায় উপনীত হলেন যে, তাঁর কাছে একটি দিরহামও বাকি ছিল না। সন্ধ্যা হলে তিনি বললেন, “হে বালিকা, আমার জন্য ইফতার নিয়ে এসাে।’ তখন সে তার কাছে রুটি ও তেল নিয়ে আসলাে। এই বালিকা তখন বলল, ‘আপনি আজ যা বণ্টন করে দিয়েছেন, তা থেকে এক দিরহাম দিয়ে কি গােস্ত ক্রয় করতে পারলেন না? তাহলে তা দিয়ে আমরা এখন ইফতার করতে পারতাম?” তিনি বললেন, তুমি আমাকে ভৎর্সনা করাে না। যদি তুমি আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতে, তাহলে অবশ্যই আমি তা করতাম।

৬. অমূল্য বাণী

  • ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, দুনিয়াতে সর্দার হলাে দানশীল ব্যক্তিগণ আর আখিরাতে সর্দার হলাে মুত্তাকি ব্যক্তিগণ।
  • জনৈক সুভাষী বলেন, ব্যক্তির দানশীলতা তার শত্রুর কাছেও তাকে প্রিয় করে তােলে, আর কৃপণতা নিজ সন্তানের কাছেও তাকে ঘৃণিত করে তােলে।
  • জনৈক সালাফ বলেন, ‘যে দান করেছে, সে সর্দার হয়েছে। আর যে সম্পদ বৃদ্ধি করেছে, তার সম্পদ কেবল বৃদ্ধিই হয়েছে।

৭. দানের সূর্য আজ ডুবে গেছে।

  • আজ কৃপণ ও সম্পদ জমাকারীদের রাজত্ব। অথচ সালাফগণ বলেছেন, কৃপণের কোনাে বন্ধু থাকে না।’ জনৈক সুভাষী বলেছেন, কৃপণ হলাে নিজের সম্পদের রক্ষক এবং নিজের ওয়ারশিদের খাজাঞ্চী।’ 
  • স্বার্থপরতা ও আত্মম্ভরিতা আজ ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষ নিজের স্বার্থের পেছনেই ছুটছে।

৮. দুআ

  • হে আল্লাহ, আমাকে হৃদয়ের কৃপণতা থেকে রক্ষা করুন। যেন আমি সফলদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারি।
  • হে আল্লাহ, আমি দুশ্চিন্তা, পেরেশানি, অপারগতা, অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণের আধিক্য ও মানুষের আধিপত্য থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [সহিহুল বুখারি : ৬৩৬৯]

৯.যথেষ্ট কথা হয়েছে, এখন কাজ দেখার বিষয়

  • আমি নিজের জন্য প্রতিদিন সদাকা করার একটি রুটিন বানিয়ে রাখব। আর যে সম্পদ সদাকা করব, দিনদিন তা বৃদ্ধি করতে থাকব। যদি উপযুক্ত কোনাে ভিক্ষুক না পাই, তাহলে দিনশেষে (ইশার সালাতের সময়) মসজিদের দানবাক্সে রেখে দেবাে। কারণ, আল্লাহ তাআলার কাছে সর্বোত্তম আমল হলাে, যা সব সময় করা হয়, যদিও তা স্বল্প হয়।
  • আমরা আমাদের সন্তানদেরকে তাদের কাছে থাকা সর্বোত্তম সম্পদ সদকা করার প্রতি অভ্যস্ত করব। আপনার কাছে থাকা আপনার পছন্দনীয় জিনিস দান করা ব্যতীত আপনি কল্যাণ অর্জন করতে পারবেন না।
  • আমি যদি ফকির হই, তাহলেও নিজের সম্পদ দান করব। যদিও আমি অভাবী, তবুও আয়িশা (রাঃ) -এর এ উপদেশ বাস্তবায়নে দান করব—যখন তােমরা অভাবগ্রস্ত হও, তখন দান করাে!’
  • রােজাদারকে ইফতার করানাের কাজে আমিও শরিক হব। আর এই দায়িত্ব। পালনে আমার মা, স্ত্রী বা মেয়েদের থেকে সাহায্য কামনা করব।
  • সদকাতুল ফিতর জমা করা এবং তা পৌছিয়ে দেওয়ার জন্য নিজের ছােট শিশু ও যুবকদের নিয়ে একটি কর্মঠ টিম গঠন করব। আমি তাদেরকে যােগ্য লােকদের জন্য কাজ করতে উৎসাহিত করব। এরপর আমি পুরাে সমাজের মাঝে তাদের (কর্মক্ষেত্র) ভাগ করে দেবাে; যেন প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারে।

১০. স্বার্থপর হবেন না

• কথাগুলাে আপনার মসজিদের মুসল্লি ও আপনার সহপাঠী-সহকর্মীদের মাঝে আলােচনা করুন।

  • এই বইটি নিজে পাঠ করে অন্যদেরকেও পড়তে দিন; যেন তারা এর থেকে উপকৃত হতে পারে।
  • মসজিদের ইমামকেও বইটি হাদিয়া দিতে পারেন; যেন তিনি জুমআর খুতবা বা তারাবিহ-পরবর্তী আলােচনায় এর থেকে ফায়দা গ্রহণ করতে পারেন।

উৎসঃ রমাদান-আত্মশুদ্ধির বিপ্লব, পৃষ্ঠাঃ ১৯৫ – ২০৪

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

দ্বীনী খিদমায় অংশ নিন

আপনার মন্তব্য লিখুন