কীভাবে আমাদের অধ্যয়ন শঙ্কামুক্ত হবে?

0
16

লেখক: মুহাম্মাদ সালেহ আল মুনাজ্জিদ | অনুবাদক: আবদুল্লাহ আল মাসউদ

একজন মুসলিম পাঠকের উচিত পড়ার সময় শরীয়তের আলোকে পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের দক্ষতাকে কাজে লাগানো। অধ্যয়নকালে পরিপূর্ণ সচেতন থাকা।

সন্দেহপূর্ণ ও অপরিচিত বইয়ের ক্ষেত্রে এই বিষয়ের প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখা কর্তব্য । সুতরাং যা-ই পড়বেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ এর আকীদা এবং আপনার জানা শরীয়তের দলীল-প্রমাণ ও আপনার কাছে থাকা সহীহ-যঈফ হাদীসের আলোকে তা যাচাই করে দেখবেন। এভাবেই আপনার বই পাঠ হয়ে উঠবে নিরাপদ ও শঙ্কামুক্ত।

সচেতনতার বিপরীত বিষয়সমূহ

১. লিখিত ও প্রকাশিত সব কিছুকে কোনরূপ যাচাই-বাছাই করা ছাড়াই নির্ধিদ্বায় মেনে নেওয়া ও অন্ধভাবে এর অনুসরণ করা এবং এর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে তা গ্রহণ করে নেওয়া।

২. সুদৃঢ়ভাবে জানা কোন বিষয় ও বাস্তবতা সম্পর্কে শুধু এই কারণে সন্দেহে নিপতিত হওয়া যে, ছাপা হওয়া বিষয়টি এর বিপরীত।

৩. অনেক বই ও লেখককে বড় করে উপস্থাপন করতে দেখে ধোঁকায় পড়া। বেদআতী ও মুনাফেক রচয়িতাদের নাম-উপাধির চমক দেখে তাকে বড় মনে করা। সেই সাথে কোন বই ও তার লেখকের বাস্তব মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হওয়া।

৪. অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তির আহ্বানে সাড়া দিয়ে কিংবা কোন হিংসুটের প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে প্রাজ্ঞ উলামায়ে কেরামের গ্রন্থাবলী পাঠ করা থেকে বিরত থাকা।

৫. সেসব বিভ্রান্ত লেখকদের বিচ্যুতি সম্পর্কে অসতর্ক থাকা, যারা তাদের বই-পুস্তকের পাতায় ও প্রবন্ধ-নিবন্ধের প্রতিটি লাইনে নিজেদের বেদআত, ভ্রষ্টতা ও বিষবাষ্প ছড়িয়ে রাখে।

তাদের কিছু অপকৌশল
  • ভ্রান্ত অর্থ প্রকাশের উদ্দেশ্যে মূল বক্তব্যে কাটছাঁট করা।
  • নসসমূহকে (text) বিকৃত ও পরিবর্তন করা এবং তাতে বাড়ানো-কমানো।
  • লক্ষ্যস্থল ব্যতিরেকে অন্য স্থানে নসকে উপস্থাপন করা।
  • নসের এমন ব্যাখ্যা করা, যাকে শরঈ অর্থ সমর্থন করে না। নসের শরঈ উদ্দিষ্ট অর্থ বাদ দিয়ে ভিন্ন অর্থ গ্রহণ করা।
  • জাল ও বানায়োট হাদীস দিয়ে প্ৰমাণ পেশ করা এবং বক্তব্যকে এমন ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধিত করা, যিনি তা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত।
  • শরীআহ বিরুদ্ধ নীতির আশ্রয় গ্রহণ করা। যেমন আকল-বুদ্ধির পরিপন্থী দাবী করে সহীহ নসকে ছুঁড়ে ফেলা কিংবা এই দাবী করা যে, নসের জাহেরী ও বাতেনী দুই ধরনের অর্থ রয়েছে।
  • বক্তব্যকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে বাতিলপন্থীদের কথা দলিল হিসেবে পেশ করা এবং সেগুলোকে ব্যাপকহারে সংকলিত করে উপস্থাপন করা।
  • দুর্বল বক্তব্য ও বিরল মতামত পেশ করা।
  • সংশয়-সন্দেহের বীজ বপন করা এবং এর সমাবেশ ঘটিয়ে তাকে সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। অতঃপর নিরবতা অবলম্বন করে কোন এক পক্ষ নেওয়া থেকে বিরত থাকা। অথবা খুব দুর্বল ভঙিমায় সেসব সংশয়-সন্দেহের প্রতিউত্তর প্রদান করা।
  • শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে অচল জিনিসকে গ্রহণযোগ্য করার হীন মানসে মিথ্যা কসম ও দৃঢ়তা প্রকাশক ভাষার ব্যবহার করা।
  • দ্বীনের সাহায্য করার ভাব ধরে শরীয়তের উপর আক্রমণ করা।
  • বিপথগামী ও পথভ্রষ্ট মানুষদের প্রশংসা করা এবং উলামায়ে কেরাম ও সঠিক পথের অনুসারীদের সমালোচনা-নিন্দা করা।
  • চটকদার শব্দাবলী ব্যবহার করা, যেমন- স্বাধীনতা, সংস্কার, আধুনিকায়ন, উন্নয়ন, প্রগতি ইত্যাদি।
  • ভ্রান্ত চিন্তাধারা প্রসারের উদ্দেশ্যে পরোক্ষ পদ্ধতি গ্রহণ করে পাঠককে এমন ভাবে স্বাধীন করে দেওয়া যে, সে নিজে থেকেই সেই চিন্তাধারা খুঁজে নেয়। যেমন, লেখক ভূমিকা স্বরূপ কিছু ভ্রান্ত কথা উপস্থাপন করে এর অনিবার্য ফলাফল বিষয়ে নিরবতা অবলম্বন করেন। যাতে করে পাঠক সেটা এমনিতেই গ্রহণ করে নেয়। অনেক সময় লেখক দোষমুক্তির অভিনয়ও করে থাকেন।

এই কারণেই প্রতিটি অনুচ্ছেদের গুপ্ত ও পরোক্ষ অর্থের ব্যাপারে সচেতন থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই অবস্থায় কর্তব্য হল, লেখকের আকীদা-বিশ্বাস ও তার চিন্তাধারা-দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নেওয়া । আর এটা নিজের দক্ষতা বা অন্যকে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে সুস্পষ্ট হতে পারে।

উৎস: কী পড়বেন কীভাবে পড়বেনপৃষ্ঠা: ২৬ – ৩০

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

দ্বীনী খিদমায় অংশ নিন

আপনার মন্তব্য লিখুন