পিতামাতা [ আপনার সম্পর্ককে মজবুত করুন ]

0
316

parents

লেখক: ড. খালিদ আবু শাদি | অনুবাদক: হাসান মাসরুর

১. আজকের আলোচ্য বিষয়ের ফায়দা

  • জান্নাতে প্রবেশ: রাসুল (সা:) বলেন: ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ [ সহিহুল বুখারি: ৫৯৮৪, সহিহু মুসলিম: ২৫৫৬]

রাসুল (সা:) বলেন: ‘পিতা হলো জান্নাতের সর্বোত্তম দরজা । সুতরাং যদি চাও তুমি তা নষ্ট করতে পারো অথবা তা সংরক্ষণও করতে পারো।‘ [সুনানুত তিরমিজি: ১৯০০]

এই হাদিসটি পিতা ও মাতা উভয়ের জন্য প্রযোজ্য।

  • পিতামাতার দুআর বরকত অর্জন করা।
  • কবিরা গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া: কবিরা গুনাহ হলো, আল্লাহর সাথে শরিক করা, পিতামাতার অবাধ্য হওয়া, মানুষ হত্যা করা এবং মিথ্যা শপথ করা।’
  • আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা: পিতামাতার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।

২. কুরআনের আলো

আপনার প্রভু আদেশ করেছেন যে, তোমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করবে এবং পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে। যদি তাদের একজন অথবা উভয়জন তোমার কাছে (তোমার সংসারে অথবা তোমার জীবদ্দশায়) বার্ধক্যে উপনীত হয়, তাহলে তাদেরকে (বিরক্তি কিংবা অসম্মানসূচক শব্দ) উফ বলবে না এবং তাদের সাথে ধমকের সুরে কথা বলবে না; বরং তাদের সাথে ভালো সম্মানজনক কথা বলবে।” [সুরা আল-ইসরা, ১৭ : ২৩]

আর তাদের জন্য সদয়ভাবে নম্রতার বাহু প্রসারিত করে দাও এবং বলো, “হে আমার পালনকর্তা, তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন, যেমন তারা আমাকে শৈশবকালে পালনপালন করেছেন।” [সুরা আল-ইসরা, ১৭ : ২৪]

আয়াতদুটিতে অনেকগুলো তাকিদ রয়েছে: ‘আদেশ করেছেন’: ‘আল-কাজাউ’ শব্দটি এমন বিষয়ে ব্যবহৃত হয়, যা চূড়ান্ত এবং যে ব্যাপারে কোনো বিতর্ক নেই।

এবং পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করবে’: এখানে শুরুতে আরবি হরফ ‘বা’ ব্যবহার করা হয়েছে সরাসরি বোঝানোর জন্য। অর্থাৎ পিতামাতার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ হবে কোনো মাধ্যম ছাড়া। এটি অলংকার শাস্ত্রের একটি দিক। পিতামাতা চাই মুসলিম হোক বা অমুসলিম হোক তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করতে হবে।

এখানে শব্দটিকে আলিফ-লাম যুক্ত না করে নাকিরা রাখা হয়েছে বিশালতা বোঝানোর জন্য। এখানে উদ্দেশ্য হলো বিশাল ইহসান।

আয়াতের শুরুতে বহুবচন ব্যবহার করা হলেও যদি তাদের কেউ তোমার কাছে বার্ধক্যে উপনীত হয় একবচনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, এ কথা বোঝানোর জন্য যে, এখানে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তা প্রত্যেকের জন্য।

৩. রাসুল (সা:) আমাদের আদর্শ

মুআবিয়া বিন জাহিমা আস-সুলামি (রা:) বলেন: ‘আমি রাসুল (সা:)-এর নিকট এসে বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার সাথে জিহাদ করতে চাই। আমি এই জিহাদের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আখিরাতের বাসস্থান প্রত্যাশা করি।” তিনি বললেন, “ধ্বংস হও তুমি! তোমার মা কি জীবিত?!” আমি বললাম, “হ্যাঁ।” তিনি বললেন, “তুমি ফিরে যাও এবং তার খিদমত করো।” এরপর আমি ভিন্ন দিক দিয়ে তাঁর কাছে এসে বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার সাথে জিহাদ করতে চাই। আমি এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আখিরাতের বাসস্থান প্রত্যাশা করি।” তিনি বললেন, “তুমি ধ্বংস হও! তোমার মা কি জীবিত?!”

আমি বললাম, “হ্যাঁ, আল্লাহর রাসুল!” তিনি বললেন, “তুমি ফিরে গিয়ে তোমার মায়ের খিদমত করো।” এরপর আমি তাঁর সামনের দিক দিয়ে এসে বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার সাথে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং আখিরাতের বাসস্থান প্রত্যাশায় জিহাদ করতে চাই।” তিনি বললেন, “ধ্বংস হও তুমি! তোমার মা কি জীবিত?!” আমি বললাম, “হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসুল!” তিনি বললেন, “তুমি ধ্বংস হও! তার পা আঁকড়ে ধরো। সেখানেই তোমার জান্নাত।” [সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৭৮১]

৪. অমূল্য বাণী

  • আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রা:) বলেন, ‘আমি পিতামাতার খিদমতের চেয়ে এমন কোনো আমল সম্পর্কে জানি না, যা আল্লাহর অধিক নৈকট্য দান করে ৷
  • আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা:) তাইসালা বিন মিয়াসকে বলেন, ‘তুমি কি জাহান্নাম থেকে পৃথক হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে চাও?’ আমি বললাম, ‘আল্লাহর শপথ, অবশ্যই।’ তিনি বললেন, ‘তোমার পিতামাতা কি জীবিত?’ আমি বললাম, ‘আমার মা জীবিত আছেন।’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর শপথ, যদি তুমি তার সামনে নম্র ভাষায় কথা বলো এবং তাদেরকে আহার করাও, তাহলে জান্নাতে প্রবেশ করবে, যতক্ষণ না কবিরা গুনাহে লিপ্ত হও।’
  • আবু হুরাইরা (রা:) দুজন লোককে দেখলেন। তাদের একজনকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “উনি কে?’ সে বলল, ‘আমার পিতা।’ তিনি বললেন, “তুমি তাকে নাম ধরে ডেকো না, তার সামনে হেঁটো না এবং তার আগে বসো না।’
  • হাসান বসরি (রা:)-কে পিতামাতার খিদমতের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, তুমি যা কিছুর মালিক, তা তাদের জন্য ব্যয় করবে এবং যতক্ষণ না আল্লাহর নাফরমানি হয়, ততক্ষণ তাদের আনুগত্য করবে।’
  • ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ (রা:) বলেন, ‘পিতার প্রতি সদাচরণ মিজানকে ভারী করে তুলবে। আর মাতার সাথে সদাচরণ ভিত্তি মজবুত করে তোলে। আর যে ভিত্তি মজবুত করে, সে হলো সর্বোত্তম।

৫. কিছু চমৎকার কাহিনি

  • একবার উসামা বিন জাইদ (রা:) শুধু জুম্মার (খেজুর গাছের মজ্জা) বের করার জন্য একটি খেজুর গাছ কেটে ফেললেন, যে সময় মদিনায় খেজুর গাছের সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ এক হাজার। তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার মা আমার কাছে জুম্মার খেতে চেয়েছেন। আর দুনিয়ার বুকে মা আমাকে যা কিছু করতে বলেছেন, আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমি তা-ই করেছি।’
  • আবু হাজিম থেকে বর্ণিত যে, আবু হুরাইরা (রা:)-এর মা যতদিন জীবিত ছিলেন, ততদিন তিনি হজ করেননি। কারণ তিনি তাঁর মায়ের খিদমত করতেন।
  • মুহাম্মাদ বিন মুনকাদির নিজের গাল মাটিতে রেখে তার মাকে বলতেন, ‘আপনার পা এর ওপর রাখুন।
  • মিসআর বিন কুদান বলেন, ‘এক রাতে মিসআরের মা তার কাছে পানি চেয়েছিলেন। তিনি উঠে পানি নিয়ে আসলেন। ইতিমধ্যে তার মা ঘুমিয়ে পড়লেন। তিনি এটি অপছন্দ করলেন যে, তিনি এখন চলে যাবেন, আর তার মা উঠে তার কাছে পানি চেয়ে পাবেন না। আবার তাকে জাগিয়ে তোলাও সমীচীন মনে করলেন না। তাই তিনি সকাল পর্যন্ত পানির পাত্র নিয়ে (তার পাশে) দাঁড়িয়ে রইলেন।
  • খলিফা আল-মামুন বলেন, ‘আমি ফজল বিন ইয়াহইয়া আল-বারমুকির চেয়ে পিতামাতার অধিক সেবাকারী আর কাউকে কখনো দেখিনি। তার সেবা এই পর্যন্ত পৌছেছে যে, ইয়াহইয়া এবং সে জেলে থাকা অবস্থায়ও ইয়াহইয়া কখনো ঠান্ডা পানি দ্বারা গোসল করতেন না। জেলের দারোগারা তাদেরকে শীতের রাতে ভেতরে লাকড়ি ঢুকাতে বাধা দিল; ফলে ইয়াহইয়া যখন শয্যা গ্রহণ করতেন, তখন ফজল লম্বা এক ধরনের বোতলে করে পানি গরম করতেন। তিনি এটি পানি দিয়ে পূর্ণ করে তার তলা বাতির আগুনের ওপর ধরে রাখতেন। তিনি সকাল পর্যন্ত হাতে পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন।
  • আবিদদের সর্দারদের একজন ছিলেন তালাক বিন হাবিব। তিনি তার মায়ের মাথা চুম্বন করতেন। তিনি মায়ের সম্মান দেখিয়ে কখনো মাকে নিচে রেখে বাড়ির ওপরের তলায় হাঁটতেন না।

৬. রমাদানে পিতামাতার সাথে সদ্ব্যবহার

রমাদান হলো আপনার পিতামাতার খিদমত করার এক সুবর্ণ সুযোগ। সুতরাং এই সময়ে তাদেরকে সন্তুষ্ট করার ব্যাপারে সচেষ্ট হোন। তাদের অবাধ্যতার মাধ্যমে যে ক্ষমা লাভের পথ বন্ধ করে রেখেছে, কীভাবে সে ক্ষমার আশা করে?! আপনি নিজের পিতামাতার ক্রোধের শিকার হয়ে কীভাবে আল্লাহ তাআলার ক্রোধ থেকে নাজাত চান?! সিয়াম ও কিয়ামুল লাইলের মাধ্যমে কীভাবে আপনি জান্নাতের দূরবর্তী দরজায় করাঘাত করবেন, যখন পিতামাতার খিদমতের মাধ্যমে নিকটবর্তী দরজায় করাঘাত করতে পারেননি?!

৭. পিতামাতার খিদমতের সূর্য হারিয়ে গেছে

অবাধ্যতার কিছু দৃশ্য:

  • স্ত্রীর কথা মানতে গিয়ে পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।
  • পিতামাতাকে আদেশ করা : যেমন মাকে ঘর পরিষ্কারের আদেশ করা অথবা কাপড় ধোয়া বা খাবার প্রস্তুতের আদেশ করা।
  • মায়ের প্রস্তুত করা খাবারে দোষ ধরা।
  • ঘরের কাজে তাদেরকে সাহায্য না করা; চাই ব্যবস্থাপনা বা শৃঙ্খলাগত কোনো বিষয়ে হোক অথবা খাবার প্রস্তুত বা অন্য কোনো কাজের ক্ষেত্রে হোক।
  • যখন তারা কথা বলে, তখন তাদের থেকে বিমুখ হওয়া। আর এটি হয়ে থাকে তাদের দিকে মনোযোগী না হওয়ার মাধ্যমে অথবা তাদের কথা কেটে ফেলা বা তাদের সাথে তর্ক করা অথবা ঝগড়ায় তাদের সাথে কঠোরতা করার মাধ্যমে।
  • যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে তাদের সাথে পরামর্শ না করা বা তাদের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া।

৮. দুআ

  • হে আল্লাহ, আমাকে মাতাপিতার খিদমতের তাওফিক দিন এবং তাদের অবাধ্যতা থেকে আমাকে মুক্তি দিন।
  • হে আল্লাহ, তারা যেমনিভাবে আমাকে ছোটবেলায় লালনপালন করেছেন, তেমনই তাদেরকে রহমতের চাদরে আচ্ছাদিত করুন।
  • হে আল্লাহ, তাদের জীবনে বরকত দান করুন এবং মৃত্যুর পর তাদের প্রতি রহম করুন।
  • হে আল্লাহ, তাদেরকে সুস্থতার পোশাক পরিয়ে দিন; যেন তাদের জীবন সুখময় হয় এবং তাদের মৃত্যুর আগে তাদেরকে ক্ষমা করে দিন; যেন গুনাহ তাদের কোনো ক্ষতি করতে না পারে।
  • হে আল্লাহ, জান্নাত লাভের পথে যেকোনো বাধা অতিক্রমে আপনি তাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং নিজ রহমতে তাদেরকে জান্নাতে পৌঁছিয়ে দিন, হে সৰ্বশ্ৰেষ্ঠ দয়ালু।
  • হে আল্লাহ, অন্যের কাছে তাদের কোনো প্রয়োজন বাকি রাখবেন না।
  • হে আল্লাহ, তারা দুনিয়াতে আমাদের জন্য যা চায়, তা দিয়ে তাদের চক্ষুকে শীতল করে দিন।
  • হে আল্লাহ, তাদেরকে আপনি নিজ জিম্মায় নিয়ে নিন, আপনার আমানত ও ইহসানের অন্তর্ভুক্ত করে নিন ৷
  • হে আল্লাহ, তাদেরকে সুন্দর জীবন দান করুন; পবিত্র রিজিক ও উত্তম আমলের তাওফিক দিন।

৯. স্বার্থপর হবেন না

  • কথাগুলো আপনার মসজিদের মুসল্লি ও আপনার সহপাঠী-সহকর্মীদের মাঝে আলোচনা করুন।
  • এই বইটি নিজে পাঠ করে অন্যদেরকেও পড়তে দিন; যেন তারা এর থেকে উপকৃত হতে পারে।
  • মসজিদের ইমামকেও বইটি হাদিয়া দিতে পারেন; যেন তিনি জুমআর খুতবা বা তারাবিহ-পরবর্তী আলোচনায় এর থেকে ফায়দা গ্রহণ করতে পারেন।

১০. যথেষ্ট কথা হয়েছে, এখন আমল দেখার বিষয়

আহমাদ আল-গিমারি আল-হাসানি (রা:) তার কিতাব ‘বিররুল ওয়ালিদাইন’-এ পিতামাতার খিদমতের পঞ্চাশের অধিক ফায়দা উল্লেখ করেছেন। তার কিছু এই:

  • পিতামাতা মুশরিক হলেও তাদের খিদমত করা আবশ্যক।
  • তাদের আদেশের সামনে কসম ভঙ্গ করে ফেলা।
  • সন্তান ও তার উপার্জিত সবই তার পিতার।
  • পিতামাতার ঋণ পরিশোধ করা অসম্ভব।
  • তাদের অনুমতি ছাড়া জিহাদ’ (জিহাদ যখন প্রত্যেকের ওপর ফরজে আইন হয়ে যায়, তখন অনুমতি নেওয়া আবশ্যক নয়।) বা সফর করা হারাম।
  • নফল সালাতের ওপর পিতামাতার খিদমত অগ্রগণ্য।
  • জিহাদের ওপর তাদের খিদমত অগ্রাধিকার পাবে।
  • তাদের খিদমত গুনাহ মোচনকারী এবং কবিরা গুনাহের কাফফারা।
  • পিতামাতার খিদমতকারীকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে; যদিও সে যেকোনো কর্ম সম্পাদন করে, যতক্ষণ না সে কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়।
  • যে পিতামাতার খিদমত করে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
  • পিতামাতার খিদমত করে দুর্ভাগ্যকে সফলতায় রূপান্তরিত করা।
  • তাদের সন্তুষ্টিতে আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হন।
  • তাদের সাথে সদাচরণ করলে জীবন ও জীবিকা বৃদ্ধি পায়।
  • যে পিতামাতার সাথে সদাচরণ করবে, তার সন্তানরা তার সাথে সদাচরণ করবে।
  • পিতামাতার জন্য ব্যয় করা আবশ্যক।

পিতামাতার সাথে কিছু সদাচরণ:

  • তাদের সাথে নম্র সুরে কথা বলা।
  • ক্রোধের সময় তাদের সামনে বিনয়ী হওয়া।
  • তাদের সামনে কথা বলার সময় হাত ওপরে না তোলা।
  • তাদেরকে নাম ধরে না ডাকা।
  • তাদের সামনে না হাঁটা।
  • (জরুরি প্রয়োজন ছাড়া) তাদের ঘুম না ভাঙানো।
  • তাদের কাছে অনুমতি প্রার্থনা করা।
  • তাদের জন্য দাঁড়ানো।
  • তাদের অসিয়ত পূরণ করা ৷
  • তাদের পক্ষ থেকে হজ আদায় করা ৷
  • তাদের মৃত্যুর পর তাদের জন্য দুআ ও ইসতিগফার করা।
  • পিতামাতার বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা।

এর বিপরীতে রয়েছে তাদের অবাধ্যতা এবং কবিরা গুনাহ:

  • যে পিতামাতার অবাধ্য হয়, সে অভিশপ্ত।
  • তাওবা ছাড়া এই অবাধ্য ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
  • পিতামাতার অবাধ্য ব্যক্তির আমল কবুল হয় না।
  • অবাধ্যতার ফলে মৃত্যুর সময় কালিমা নসিব হয় না।
  • পার্থিব জীবনে খুব দ্রুতই সে অবাধ্যতার শাস্তি পেয়ে যায়।
  • পিতামাতা জুলুম করলেও তাদের অবাধ্যতা করা হারাম ।
  •  পিতামাতা যদি ঘর ও পরিবার থেকে বেরও করে দেয়, তথাপি তাদের অবাধ্যতা করা হারাম।

কিছু অবাধ্যতা:

  • পিতামাতাকে পেরেশান করে তোলা।
  • তাদের কান্নার কারণ হওয়া।
  • তাদের গালির কারণ হওয়া।
  • তাদের দিকে চোখে রাঙিয়ে তাকানো।

উৎস: রমাদান-আত্মশুদ্ধির বিপ্লব, পৃষ্ঠা: ২৭১ – ২৮১

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Whatsapp, Telegram, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। ইসলামি দা’ওয়াহ্‌র ৮০ টিরও বেশী উপায়! বিস্তারিত জানতে এইখানে ক্লিক করুন "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

দ্বীনী খিদমায় অংশ নিন

আপনার মন্তব্য লিখুন