Home বিষয় সিয়াম (রোজা) ও রামাদান সিয়াম পালনকারীর উপহার

সিয়াম পালনকারীর উপহার

0
353

লেখকঃ ড. আইদ আল কারণী | সম্পাদনা ও সংযোজনঃ আকরাম হোসাইন

মানুষ তার প্রিয় মানুষকে হাদিয়া দেয়। উপহার প্রদান করে। আমিও আমার প্রিয় সিয়াম পালনকারী ভাই-বােনদের কিছু উপহার দিতে চাই। সিয়াম পালনকারীর জন্য এর চেয়ে বড় উপহার আর কী হতে পারে, যে-উপহার সয়ং রাসূল (সাঃ) প্রতিটি মুসলিমকে দিয়ে গিয়েছেন। কী সেই অমূল্য উপহার?

সেই অমূল্য ও উপকারী উপহার হলাে ওই সকল হাদীস—যে-হাদীসগুলােতে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বিভিন্ন আমলের প্রতিদানের কথা বলে দিয়েছেন। কখন কী আমল করলে কী পুরস্কার পাওয়া যাবে সেটা উল্লেখ করেছেন। এ হাদীসগুলাের প্রত্যেকটি দ্বীন-দুনিয়ার সৌভাগ্য ও কল্যাণের রাজতােরণ। নিম্নে এ ধরনের কিছু হাদীস উল্লেখ করা হলাে : রাসূল (সাঃ) বলেছেন—

এক.

 

যে-ব্যক্তি সকাল বেলা এই দুআ পড়বে—সে-ব্যক্তি ইসমাঈল আলাইহিস সালামের বংশের একটা গােলাম আযাদ করার সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। তার জন্য অতিরিক্ত দশটি নেকী লেখা হবে, দশটি গুনাহ মাফ করা হবে এবং তার মর্যাদা দশগুণ বৃদ্ধি করা হবে, সে শয়তানের ক্ষতি থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদ থাকবে। আর যে-ব্যক্তি সন্ধ্যায় এরূপ বলবে, সে সকাল পর্যন্ত এরূপ সাওয়াব পাবে।[1]

দুই.

যে-ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় এ দুআ পাঠ করবে—সে যদি-ওই দিনে বা রাতে মারা যায়, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।[2]

তিন.

 

যে-ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় এই দুআটি একশতবার পাঠ করবে—কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল নিয়ে আর কেউ উপস্থিত হতে পারবে না। তবে হ্যাঁ, অন্য কেউ যদি তার চেয়ে বেশি পড়ে তাহলে সে পারবে।[3]

চার.

 

যে-ব্যক্তি এই দুআ পড়বে তার জন্য জান্নাত অপরিহার্য হয়ে যাবো।[4]

পাঁচ.

 

যে-ব্যক্তি এই দুআ পড়বে তার জন্য জান্নাতে একটি বৃক্ষ রােপণ করা হবে।[5]

ছয়.

 

যে-ব্যক্তি দিনে একশােবার এই দুআ পাঠ করবে তার গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে; যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।[6]

সাত.

যে-ব্যক্তি (রাতের সালাতে) দশ আয়াত পরিমাণ পাঠ করবে, সে গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর যে-ব্যক্তি রাতে একশত আয়াত তিলাওয়াত করবে, সে অনুগত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হবে এবং যে-ব্যক্তি এক হাজার আয়াত তিলাওয়াত করবে, তাকে অশেষ সাওয়াবপ্রাপ্তদের তালিকাভুক্ত করা হবে।[7]

আট.

 

যে-ব্যক্তি সন্ধ্যায় তিনবার এই দুআটি পাঠ করবে সকাল পর্যন্ত তার ওপর কোনাে আকস্মিক বিপদ আপতিত হবে না। আর যে-ব্যক্তি সকাল বেলায় তিনবার পড়বে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর কোনাে আকস্মিক বিপদ আপতিত হবে না।[8]

নয়.

যে-ব্যক্তি সন্ধ্যায় এই দুআ পড়বে সেই রাতে সাপের দংশন তার কোনাে ক্ষতি করতে পারবে না।[9]

দশ.

যে-ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দুআটি পড়ে তবে তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয় ‘তুমি যথেষ্ট করেছ, মুক্তি পেয়েছ; শয়তান তােমার থেকে দূরে সরে গেছে।[10]

এগারাে.

যে-ব্যক্তি মুআযযিনের আযান শােনার সময় এই দুআ পড়বে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।[11]

বারাে.

যে-ব্যক্তি সূরা ইখলাস দশবার পাঠ করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।[12]

তেরাে.

যে-ব্যক্তি জুমআর দিন সূরা কাহফ তিলাওয়াত করবে, তার জন্য দুই জুমআর মধ্যবর্তী কাজ ও সময় আলােকময় করে দেওয়া হবে।[13]

চৌদ্দ.

যে-ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর আয়াতুল কুরসী পড়বে জান্নাতে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে তারা একমাত্র বাধা হলাে মৃত্যু।[14]

 পনেরাে.

যে-ব্যক্তি সুরা ইখলাস তিলাওয়াত করল সে যেন কুরআনের এক তৃতীয়াংশ তিলাওয়াত করল।[15]

যােল.

যে-ব্যক্তি রাতের বেলায় একশত আয়াত তিলাওয়াত করবে সে সারা রাত ইবাদাত করার সাওয়াব পাবে।[16]

এ হলাে আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পক্ষ থেকে একগুচ্ছ উপহার। প্রত্যেক সিয়াম পালনকারীর প্রতি অসামান্য হাদিয়া। হে আল্লাহ, আপনি আপনার যিকির, শােকর এবং উত্তম ইবাদাতের ক্ষেত্রে আমাদের সহযােগিতা করুন।

উৎসঃ ভালোবাসার রামাদান, পৃষ্ঠাঃ ১৭২ – ১৭৬


[1] সুনানু আবি দাউদ : ৫০৭৭, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৮৬৭
[2] সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৮৭২
[3] জামি তিরমিযী : ৩৪৬৮
[4] সহীহ ইবনু হিব্বান : ২৩৬৮
[5] জামি তিরমিযী : ৩৪৬৪
[6] সহীহ বুখারী, ৬৪০৫, সহীহ মুসলিম, ২৬৯১
[7] সুনানু আবি দাউদ : ১৩৯৮
[8] সুনানু আবি দাউদ : ৫০৮৮
[9] সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৫৭৮
[10] জামি তিরমিযী : ৩৪২৬
[11] সহীহ মুসলিম : ৩৮৬
[12] মুসনাদ আহমাদ : ১৫৬১০
[13] মিশকাতুল মাসাবীহ : ২১৭৫; সুনানু বায়হাকী, সুনানুল কুবরা, ৫৯৯৬
[14] সুনানুন নাসায়ী : ১৯২৮
[15] জামি তিরমিযী : ২৮৯৬
[16] মুসনাদে আহমাদ : ১৬৯৫৮

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

NO COMMENTS

আপনার মন্তব্য লিখুন