তাওবা [আপনার অন্তরের অবস্থা পরিবর্তন করুন]

0
350

repentance

লেখক: ড. খালিদ আবু শাদি | অনুবাদক: হাসান মাসরুর

১. আজকের আলোচ্য বিষয়ের ফায়দা

  • গুনাহ থেকে তাওবাকারী গুনাহে লিপ্ত না হওয়া ব্যক্তির মতো:

রাসুল (সা:) বলেন: গুনাহ থেকে তাওবাকারী সে ব্যক্তির ন্যায়, যার কোনো গুনাহ নেই।‘ [সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪২৫০ | আলবানি (রা:) হাদিসটিকে হাসান বলেছেন ]

গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তির উদাহরণ হলো ধৌত সে কাপড়ের মতো, যাতে আসলে ময়লাই লাগেনি।

  • তাওবাকারী রহমানের প্রিয় বান্দা:

আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন পবিত্রতা অর্জনকারীদের।” [সুরা আল-বাকারা: ২২২]

  • বান্দার তাওবা আল্লাহর সন্তুষ্টির কারণ:

নবিজি (সা:) বলেন:’মনে করো, কোনো এক ব্যক্তি (সফরের) কোনো এক স্থানে অবতরণ করল, সেখানে প্রাণেরও ভয় ছিল। তার সঙ্গে তার সফরের বাহন ছিল। যার ওপর তার খাদ্য ও পানীয় ছিল, সে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ল এবং জেগে দেখল, তার বাহন চলে গেছে। তখন সে গরমে ও পিপাসায় কাতর হয়ে পড়ল। (রাবি বলেন,) অথবা আল্লাহ যা চাইলেন, তা হলো। তখন সে বলল, আমি যে স্থানে ছিলাম সেখানেই ফিরে যাই। এরপর সে নিজ স্থানে ফিরে এসে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। তারপর জেগে দেখল যে, তার বাহনটি তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। তখন সে ব্যক্তি যতটা খুশি হয়, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার তাওবা করার কারণে এরচেয়েও অনেক বেশি খুশি হন।’ [সহিহুল বুখারি: ৬৩০৮]

  • তাওবাকারী অনুতপ্ত ও প্রশংসিত:

আওন বিন আব্দুল্লাহ বিন আতাবাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “বান্দা যদি গুনাহের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করে, তাহলে অবশ্যই তা ছেড়ে দেবে। আর তার তাওবার চাবি হলো, গুনাহের ব্যাপারে অনুশোচনা। আর বান্দা নিজের গুনাহের ব্যাপারে ততক্ষণ পর্যন্ত আক্ষেপ করতে থাকে, যতক্ষণ না এরচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উপকারী কোনো ভালো কাজ করতে পারে।’

২. কুরআনের আলো

আল্লাহ তাআলা বলেন: “হে ইমানদারগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফল হও।” [সুরা আন-নুর, ২৪ : ৩১]

আল্লাহ তাআলা সর্বস্তরের মানুষকে তাওবার আদেশ করেছেন: গুনাহগারদের গুনাহের পথ ছেড়ে ইবাদতের পথ ধরার জন্য এবং ইবাদতকারীদের ইবাদতের ওপর থেকে নজর ফিরিয়ে তাওফিকের দিকে নজর দেওয়ার জন্য এবং বিশেষ শ্রেণিকে বিশেষভাবে আদেশ করেছেন তাওফিকের ওপর থেকে নজর ফিরিয়ে তাওফিকদাতার দিকে নজর দেওয়া জন্য। আর তিনি হলেন আল্লাহ তাআলা। আর এ কারণেই বলা হয়ে থাকে, মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি তাওবার মুখাপেক্ষী হলো সে ব্যক্তি, যে মনে করে তার তাওবার প্রয়োজন নেই।

নিশ্চয় তিনি অতিশয় তাওবা কবুলকারী ও অসীম দয়ালু।” [সুরা আল-বাকারা, ২:৩৭]

আল্লাহ তাআলার গুণ হিসেবে এখানে বলা হয়েছে, তিনি অতিশয় তাওবা কবুলকারী। আর পেছনে দুটি কারণ :

প্রথমত, যখন দুনিয়ার কোনো বাদশাহর সামনে কেউ ভুল করে এবং পরে ওজরখাহি করে, তখন সে তাকে ক্ষমা করে দেয়। যদি এই লোক দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করে, তাহলে ওজরখাহি করলেও বাদশাহ তার ওজর গ্রহণ করে না। কারণ, তার স্বভাব-বৈশিষ্ট্য এর জন্য প্রতিবন্ধক। কিন্তু আল্লাহ তাআলা সম্পূর্ণ এর বিপরীত।

দ্বিতীয়ত, যারা আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা করে তাদের সংখ্যা অনেক। যেহেতু তিনি সকলের তাওবা কবুল করেন, তাই তিনিই অতিশয় তাওবা কবুলকারী।

৩. রাসুল আমাদের আদর্শ

রাসুল (সা:) বলেন: হে লোকসকল, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয় আমি আল্লাহর কাছে তাওবা করি এবং প্রতিদিন ১০০ বার তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।’ [মুসনাদু আহমাদ: ১৮২৯৩]

ফায়দা: রহমতের নবি (সা:)-এর প্রতি লক্ষ করুন। তিনি আল্লাহর কাছে তাওবা করেছেন এবং প্রতিদিন ৭০ বা ১০০ বারের অধিক ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। বরং নবিজি (সা:) নিজ মজলিশেও এই বিষয়টির ঘোষণা দিতেন এবং অধিক পরিমাণে ইসতিগফার পাঠ করতেন। সাহাবিগণ গণনা করেছেন যে, নবিজি এক মজলিশে ১০০ বারের অধিক এই দুআটি পাঠ করেছেন: হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি অতিশয় তাওবা কবুলকারী অসীম দয়ালু।’ [সুনানু আবি দাউদ: ১৫১৬]

নবিজি (সা:)-এর পক্ষ থেকে আগত এই তির মানুষের গ্রীবাসন্ধি থেকে মন্দ ধারণার পুঁটলি দূর করে দেয়, যা অনেক সময় তার ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

এখানে কি দুটি সুরতের মাঝে কোনো পার্থক্য আছে? একটি হলো ওই ব্যক্তির সুরত, যে নিজের মুক্তিপ্রত্যাশী এবং দ্বিতীয়টি হলো ওই ব্যক্তির সুরত, নিজের গুনাহের ক্ষমাপ্রত্যাশী? যদি কোনো গুনাহগার ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে মানুষ মনে করে যে, সে কোনো অপরাধে লিপ্ত হয়েছে এবং কোনো কবিরা গুনাহ করেছে। কিন্তু সুন্দর নববি পর্দা ও রহমতে ইলাহির আচ্ছাদন প্রত্যেক গুনাহগারকে আবৃত করে রেখেছে। আর তা এভাবে যে, সব মানুষের জন্য ইসতিগফার বৈধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি বকর বিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি গুনাহকারী সবচেয়ে কম ইসতিগফারকারী। আর তাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি ইসতিগফারকারী সবচেয়ে কম গুনাহকারী।’

৪. অমূল্য বাণী

  • ফুজাইল বিন ইয়াজ (রা:) বলেন, ‘প্রতি রাতে যখন অন্ধকার নেমে আসে এবং রাত তার পর্দার চাদর ছড়িয়ে দেয়, তখন আল্লাহ তাআলা ডাক দিয়ে বলেন, “আমার চেয়ে বড় দানশীল কে আছে? সৃষ্টিজগৎ আমার অবাধ্যতা করে, তবুও আমি তাদের দেখাশোনা করি। আমি তাদেরকে তাদের বিছানায় খাওয়াই, যেন তারা আমার অবাধ্যতা করেনি এবং তাদের রক্ষণাবেক্ষণ করি, যেন তারা গুনাহ করেনি। আমার ও তাদের মাঝে অবাধ্যতাকারীর ওপর কে সর্বাধিক করুণাকারী? আমি অপরাধীর প্রতি অনুগ্রহ করি। এমন কে আছে, যে আমাকে ডেকেছে; কিন্তু আমি তার দিকে মনোযোগ দিইনি? অথবা এমন কে আছে, যে আমার কাছে প্রার্থনা করেছে; কিন্তু আমি তাকে দান করিনি? অথবা এমন কে আছে, যে আমার দরবারে অবস্থান করতে চেয়েছে; কিন্তু আমি তাকে তাড়িয়ে দিয়েছি? আমিই অনুগ্রহকারী এবং অনুগ্রহ আমার পক্ষ থেকেই আসে। আমিই দানশীল এবং দান আমার পক্ষ থেকেই আসে। আমিই দয়াশীল এবং দয়া আমার পক্ষ থেকেই আসে। আমার দয়ার কারণেই অবাধ্যতার পর অবাধ্যদেরকে আমি ক্ষমা করে দিই। আমার দয়ার কারণেই তাওবাকারীকে এমন ক্ষমা করি, যেন সে নাফরমানি করেনি। সুতরাং আমার থেকে পালিয়ে সৃষ্টিজগৎ কোথায় যাচ্ছে? আর আমার দরবার থেকে সরে অবাধ্যতাকারীরা কোথায় যাচ্ছে?””
  • উমর বিন খাত্তাব (রা:) বলেন, ‘তোমরা তাওবাকারীদের সাথে বসো। কারণ, তাদের হৃদয় সবচেয়ে বেশি কোমল।’
  • ইবনুস সাম্মাক (রা:) বলতেন, ‘আল্লাহর শপথ, আল্লাহ তোমাদের অবকাশ দিয়েছেন। এমনকি যেন তিনি তোমাদের ছেড়ে দিয়েছেন।’
  • মুজাহিদ (রা:) বলেন, ‘যে সকাল-সন্ধ্যায় তাওবা করে না, সে জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।’
  • সাহল বিন আব্দুল্লাহ আত-তুসতারি (রা:) বলেন, ‘তাওবা হলো মন্দ নড়াচড়াকে প্রশংসিত নড়াচড়ায় পরিবর্তন করা।’
  • আলি (রা:) বলেন, ‘বিস্ময় ওই ব্যক্তির ব্যাপারে, যে ধ্বংস হচ্ছে; অথচ তার সাথেই নাজাতের ব্যবস্থা রয়েছে।’ তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘সেটি কী?’ তিনি বললেন, “ইসতিগফার ও তাওবা।’
  • ইবনে আব্বাস (রা:) বলেন, ‘যে পাপই বান্দা বারবার করতে থাকে, তা কবিরা গুনাহ। যতক্ষণ বান্দা তাওবা করে, ততক্ষণ তা কবিরা গুনাহ নয়।’
  • আতা আল-খুরাসানি (রা:) বলেন, ‘ইতিকাফকারীর উদাহরণ হলো ওই ব্যক্তির মতো, যে নিজেকে তার রবের সামনে নিক্ষেপ করে। এরপর বলে, ‘হে আমার প্রভু, আমাকে ক্ষমা করার আগ পর্যন্ত আমি এখানেই থাকব; যতক্ষণ না আপনি আমার প্রতি দয়া করবেন, আমি এখান থেকে সরব না।
  • ইবনে মাসউদ (রা:) বলেন, ‘সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো, আল্লাহর সাথে শিরক করা, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে যাওয়া, আল্লাহর কৌশল বা চক্রান্তের ব্যাপারে নিরাপদ হয়ে যাওয়া এবং আল্লাহর দয়ার ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়া।

৫. কিছু চমৎকার কাহিনি

  • আব্দুল্লাহ বিন মুবারক(রা:)-কে তার প্রাথমিক অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি একটি উদ্যানে ছিলাম। বন্ধুদের সাথে আহার করছিলাম। আমি দাবা ও বাদ্যযন্ত্রের প্রতি খুব আগ্রহী ছিলাম। একদা আমি গভীর রাতে উঠে দাঁড়ালাম। তখনও আমার হাতে দাবা ছিল । হঠাৎ আমার মাথার ওপর একটি পাখি চিৎকার করে উঠল। তখন আমি এই আয়াতটি শুনতে পেলাম: “মুমিনদের জন্য কি সময় হয়নি যে, তাদের অন্তর বিনম্র হবে আল্লাহর স্মরণে..।” [সুরা আল-হাদিদ, ৫৭ : ১৬]

এর উত্তরে আমি বললাম, “অবশ্যই সময় হয়েছে।” এরপর নিজের হাতে থাকা কাঠিটি ভেঙে ফেললাম। আর এটিই ছিল আমার প্রথম সংগ্রাম।’

  • আলি (রা:) শুনতে পেলেন জনৈক বেদুইন বলছে, ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তাওবা করছি।’ তিনি বললেন, ‘ওহে, মুখে খুব দ্রুত তাওবা হলো মিথ্যুকদের তাওবা।’ সে বলল, “তাহলে তাওবা কী?’ তিনি বললেন, ‘তাওবা হলো ছয়টি জিনিসের সমষ্টি : অতীতের গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া, পেছনের কাজা ফরজগুলো আদায় করে নেওয়া, জুলুম পরিহার করা ও ঝগড়া মিটিয়ে নেওয়া, পুনরায় গুনাহ না করার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করা, নিজেকে যেমন গুনাহে অভ্যস্ত করে নিয়েছে—তেমনই নেক কাজে অভ্যস্ত করে নেওয়া এবং অবাধ্যতার স্বাদ যেভাবে আস্বাদন করেছে—তেমনিভাবে ইবাদতের মিষ্টতাও আস্বাদন করা।

৬. রমাদানে তাওবা

যে রমাদান পেয়েও নিজের ক্ষমা চেয়ে নিতে পারল না, সে ধ্বংস হোক! আপনি কি কখনো এমন দীর্ঘ কোনো দুআ করেছেন, যা থেকে আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করার আগে উঠে আসেননি? আপনি কি রমাদানের কোনো রাতে এত অধিক পরিমাণে ক্রন্দন করেছেন, যার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে নিজের মুক্তির আশা করতে পারেন? 

এই সময়ের চেয়ে উপযুক্ত কোনো সময় আছে কি, যখন আপনি গায়ক- গায়িকাদের গান শ্রবণ থেকে তাওবা করবেন? অশ্লীল চ্যানেলগুলো দেখা থেকে তাওবা করবেন? সুতরাং এমন দিন আসার আগেই তা দ্রুত করে নিন, যেদিন ভুলগুলো শুধরানো যাবে না এবং ক্ষতিগুলোর ঘাটতি পূরণ করা যাবে না। সুতরাং আজ যদি তাওবা না করেন, তাহলে আর কবে তা করবেন?

৭. তাওবার সূর্য অস্তমিত হয়ে গেছে

ফলে আমরা বর্তমানে এই অবস্থাগুলো দেখতে পাচ্ছি:

  • গুনাহকে বড় করে দেখা। যখন কেউ নিজের গুনাহকে বড় করে দেখে, তখন আর সে নিজের মাগফিরাতের কোনো সুরত দেখে না; তাই সে অনবরত অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকে। আর এটি হলো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া; যা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
  • গুনাহকে হালকা বা তুচ্ছ মনে করা । অনেক অবাধ্য ব্যক্তিই নিজের গুনাহকে তুচ্ছ মনে করে এবং গুনাহকে ছোট মনে করে; তাই তা অব্যাহতভাবে করে যায়।
  • বারবার গুনাহে লিপ্ত হওয়া এবং সব সময় গুনাহ করতে থাকা।
  • প্রকাশ্যে গুনাহ করা এবং তা নিয়ে দম্ভ করা।

গুনাহের এই চারটি অবস্থার কারণ, শয়তান বান্দার মাঝে ধীরে ধীরে অনুপ্রবেশ করে। প্রথমে গুনাহে লিপ্ত করায়। এরপর তাতে নিমগ্নতা চলে আসে এবং পরে হৃদয়ের সাথে তার সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। আর তখন সে এটিকে ভালো মনে করতে থাকে এবং সর্বশেষ পর্বে সেটি হালাল মনে করে। আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

৮. দুআ

হে আল্লাহ, আমার পাপ, আমার অজ্ঞতা ও আমার কাজের সীমালঙ্ঘনকে মার্জনা করে দিন। এবং সেসব অপরাধও মার্জনা করে দিন, যা সম্পর্কে আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করে দিন আমার আন্তরিকতাপূর্ণ ও রসিকতামূলক অপরাধ এবং আমার ইচ্ছাকৃত ও ভুলক্রমে সব রকমের অপরাধ (যা আমি করেছি)। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করে দিন, যা আমি আগে করেছি, যা আমি পরে করেছি, যা আমি গোপনে করেছি, যা আমি প্রকাশ্যে করেছি এবং যা সম্পর্কে আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন। আপনিই (কাউকে) করেন অগ্রগামী আর আপনিই (কাউকে) করেন পশ্চাদগামী। আপনি সব বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান।’ [সহিহু মুসলিম : ২৭১৯]

হে আল্লাহ, আমার সকল প্রকার গুনাহ ক্ষমা করে দিন—কম এবং বেশি, প্রথম এবং শেষ, প্রকাশ্য এবং গোপনীয় (সব ধরনের গুনাহ)।‘ [সহিহু মুসলিম : ৪৮৩, সুনানু আবি দাউদ : ৮৭৮]

হে আমার প্রতিপালক, আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি অতিশয় তাওবা কবুলকারী অসীম দয়ালু।’ [সুনানু আবি দাউদ : ১৫১৬] 

এভাবে ব্যাপক শব্দে দুআ করলে বান্দা যত ধরনের গুনাহে লিপ্ত হয়েছে, তার সবকিছু থেকে তাওবা করা হবে—যা হয়তো সে নিজেও জানে না। সুতরাং আপনার জীবনে যেন এমন একটি দিনও অতিবাহিত না হয়, যা আপনি তাওবা ছাড়া অতিবাহিত করেছেন। আর প্রতিদিন উল্লিখিত দুআগুলো থেকে অন্তত একটি দুআ হলেও অবশ্যই পাঠ করবেন।

৯. স্বার্থপর হবেন না

  • কথাগুলো আপনার মসজিদের মুসল্লি ও আপনার সহপাঠী-সহকর্মীদের মাঝে আলোচনা করুন।
  • এই বইটি নিজে পাঠ করে অন্যদেরকেও পড়তে দিন; যেন তারা এর থেকে উপকৃত হতে পারে।
  • মসজিদের ইমামকেও বইটি হাদিয়া দিতে পারেন; যেন তিনি জুমআর খুতবা বা তারাবিহ-পরবর্তী আলোচনায় এর থেকে ফায়দা গ্রহণ করতে পারেন।

১০. যথেষ্ট কথা হয়েছে, এখন আমল দেখার বিষয়

  • প্রতি রাতে আল্লাহর কাছে আমি নিজের তাওবা নবায়ন করব।
  • আমি নববি দুআগুলো মুখস্থ করে তা পাঠ করতে থাকব।
  • আমি নিজেকে নিয়ে পড়ে থাকব না; বরং অবাধ্যদেরকে আল্লাহর পথে টেনে আনার চেষ্টা করব। আল্লাহর ক্ষমার ব্যাপারে তাদের জন্য আশার দরজা খুলে দেবো।
  • অচিরেই আমি প্রাপকের কাছে তার হক পৌঁছে দেবো। এই পুরো মাসে আমি কারও ওপর জুলুম করব না।

উৎস: রমাদান-আত্মশুদ্ধির বিপ্লব, পৃষ্ঠা: ৪৫ – ৫৪

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Whatsapp, Telegram, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। ইসলামি দা’ওয়াহ্‌র ৮০ টিরও বেশী উপায়! বিস্তারিত জানতে এইখানে ক্লিক করুন "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

দ্বীনী খিদমায় অংশ নিন

আপনার মন্তব্য লিখুন