দুর্দশাগ্রস্তদের কথা ভেবে সান্ত্বনা লাভ করুন

0
191

লেখকঃ ড. আয়িদ আল করনী | অনুবাদঃ ডা. হাফেজ মাওলানা মােহাম্মদ নূর হােছাইন

আপনার ডানে-বামে-চারপাশে তাকান। আপনি কি দুর্দশাগ্রস্ত ও হতভাগাদের দেখতে পান না? প্রতিটি ঘরেই শােক আছে, বিরহ আছে, কষ্ট আছে। প্রতিটি গাল বেয়েই চোখের পানি ঝরছে। কতই না মুসিবত আর কতই না ধৈর্যশীল লােকজন! আপনি একাই শুধু সমস্যাগ্রস্ত নন। অন্যের সাথে তুলনা করে দেখলে আপনার সমস্যা নেহায়েত কম বলেই মনে হবে।

কত রুগ্ন ব্যক্তিই তাে রােগ শয্যায় শুয়ে অবর্ণনীয় যন্ত্রণা ভােগ করছে! কত লােক বন্দি হওয়ার কারণে বছরের পর বছর সূর্যের আলাের মুখ দেখেনি, তারা জেলখানার চৌহদ্দি ছাড়া আর কোন কিছুই চেনে না! কত নারী-পুরুষ তাদের সন্তানদেরকে ভরা যৌবনে বা অকালে হারিয়েছে! কত লােকই না সমস্যাগ্রস্ত, অভাবগ্রস্ত ও নিপীড়িত!

যারা আপনার চেয়ে শশাচনীয় অবস্থায় আছে, তাদের কথা মনে করে সান্ত্বনা লাভ করুন। জেনে রাখুন যে, এ দুনিয়া ঈমানদারদের জন্য জেলখানার মতােই একটি দুঃখ ও বিষন্নতার ঘর। সকালবেলা প্রাসাদগুলাে মানুষে ভরা থাকে, আর মুহূর্তেই দুর্বিপাকে পড়ে সেগুলাে বিরান হয়ে যায়! কখনাে জীবন শান্তিময়, দেহ সুস্থ, সম্পদ অঢেল, সন্তান সুস্থ-সবল হতে পারে, আবার কয়েকদিনের বা ক্ষণিকের মধ্যেই দারিদ্র্য, মৃত্যু, বিচ্ছেদ ও অসুস্থতাও ঘটতে পারে।

আর তােমরা তাদের আবাসস্থলেই বসবাস করতে, যারা নিজের উপর অত্যাচার করেছিল এবং আমি তাদের সাথে কী আচরণ করেছিলাম তা তােমাদের নিকট সুস্পষ্ট ছিল। আর আমি তােমাদের জন্য অনেক দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছি।” [১৪-সূরা ইবরাহীম : আয়াত-৪৫]

অভিজ্ঞ উট যেমন একটি মাত্র পাথরের উপর হাঁটু গেড়ে বসতে পারে। প্রয়ােজন হলে আপনাকেও এর মতাে প্রতিকূল পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে।

{বাইন মাছ যেমন কাদার মধ্যে থাকে, কিন্তু তার গায়ে কাদা জড়িয়ে যায়, আপনিও তেমনি মন্দ পরিবেশে থেকেও মন্দে জড়াবেন না। সেই সাথে অন্যেরা ভালাে হয় না বিধায় দুঃখবােধ করে নিজেকেও ধ্বংস করে দিবেন। এ প্রসঙ্গে দেখুন- [২৬-সূরা আশ শােয়ারা : আয়াত-৩] অনুবাদক।}

আপনাকে অবশ্যই আপনার সমস্যাবলিকে আপনার চারপাশের লােকদের। সমস্যাবলির সাথে ও আপনার পূর্ববর্তী লােকদের সাথে তুলনা করেও দেখতে হবে। আপনার বুঝা উচিত যে, তাদের তুলনায় আপনি অনেক ভালাে টু অবস্থাতেই আছেন এবং এটাও বুঝা উচিত যে, আপনি শুধু ছােটখাট কিছু ই সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। সুতরাং আল্লাহ তায়ালার দয়ার জন্য তার প্রশংসা ৬ করুন। আপনার জন্য তিনি যা রেখে দিয়েছেন, তার জন্য তাকে ধন্যবাদ # দিন, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হােন, তাঁর শুকরিয়া আদায় করুন। তিনি যা ছিনিয়ে নিয়েছেন তার জন্যে তাঁর নিকট পুরস্কার চান এবং দুর্দশাগ্রস্তদের কথা ভেবে সান্ত্বনা খোজ করুন।

নবী করীম (সাঃ) -এর মাঝে আপনার জন্য ধৈর্যের পরম উপমা রয়েছে। উটের নাড়িভুড়ি তার মাথায় চাপানাে হয়েছিল; তার পা থেকে রক্ত ঝরেছিল; তায়েফবাসী তাকে পাথর নিক্ষেপ করে রক্তাক্ত করেছিল; তার চেহারা ফেঁটে গিয়েছিল; তাঁকে গিরিপথে বন্দী করা হয়েছিল, সেখানে তিনি গাছের পাতা খেতেও বাধ্য হয়েছিলেন; মক্কা থেকে তাঁকে বিতাড়িত করা হয়েছিল; যুদ্ধে তাঁর সামনের দাঁত ভেঙে গিয়েছিল; তাঁর নিস্পাপ স্ত্রীকে অপবাদ দেয়া হয়েছিল; তাঁর সত্তর জন সাহাবীকে হত্যা করা হয়েছিল; তিনি তাঁর ছেলের ও অধিকাংশ মেয়েদের মত্যর শােক পেয়েছিলেন; ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করার জন্য তিনি তার পেটে পাথর বেঁধে ছিলেন এবং তাঁকে কবি, জাদুকর, গণক, পাগল হওয়ার অপবাদও দেয়া হয়েছিল।

আর এসবকিছু একই সময়ে ঘটেছিল। এতসব ঘটনার পরও তিনি অটল ধৈর্যধারণ করেছিলেন। এতসব সাংঘাতিক অগ্নিপরীক্ষা ও দুঃখ-কষ্টের মাঝেও মহান আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছিলেন। নবী যাকারিয়া (আ:)-কে হত্যা করা হয়েছিল, নবী মূসা (আ:)-কে ভীষণ জ্বালাতন করা হয়েছিল; নবী ইব্রাহীম (আ:)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল এবং সকল হক্ক ইমামগণও একইভাবে অত্যাচারিত হয়েছিলেন। উমর (রা:), উসমান (রা:) ও আলী (রা:) গুপ্তঘাতক কর্তৃক নিহত হয়েছিলেন। অতীতের অনেক আলেমকে বন্দি ও অত্যাচার করা হয়েছিল।

নাকি তােমরা একথা ভেবে বসে আছ যে, তােমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে অথচ এখনও তােমাদের পূর্ববর্তীদের মতাে তােমাদেরকে পরীক্ষা করা হয়নি? তারা অভাবগ্রস্ত, রােগগ্রস্ত ও শিহরিত হয়েছিলেন।” [২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২১৪]

উৎসঃ লা তাহযান [হতাশ হবেন না], ক্রমিক নংঃ ২২, পৃষ্ঠা: ৬৪ – ৬৬

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

দ্বীনী খিদমায় অংশ নিন

আপনার মন্তব্য লিখুন