আল্লাহ যা দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকুন

0
41

লেখকঃ ড. আয়িদ আল করনী | অনুবাদঃ ডা. হাফেজ মাওলানা মােহাম্মদ নূর হােছাইন

সম্পদ, চেহারা, সন্তানাদি, গৃহ ও মেধা আপনার ভাগে যা আছে তাতে আপনাকে অবশ্যই সন্তুষ্ট থাকতে হবে।

সুতরাং, আমি আপনাকে যা দান করেছি তা গ্রহণ করুন এবং কৃতজ্ঞ হােন।” [৭-সূরা আল আ’রাফ : আয়াত-১৪৪]

ইসলামের প্রাথমিক যুগের অধিকাংশ আলেম ও ধার্মিক মুসলিমগণ দরিদ্র ছিলেন; তাই তাে একথা বলা নিষ্প্রয়ােজন যে, তাদের সুন্দর সুন্দর বাড়ি ঘর বা গাড়ি ঘােড়া ছিল না। এমন অসুবিধা সত্ত্বেও তারা সফল জীবন যাপন করেছিলেন। কোন যাদু দিয়ে নয় বরং তাদের যা দান করা হয়েছিল তার যথাযথ প্রয়ােগ করে, তাদের সময়কে সঠিক পথে ব্যয় করে তারা মানব জাতির কল্যাণ সাধন করেছিলেন। এ কারণে তাদের জীবন, তাঁদের সময় ও তাদের মেধা বরকতময় ও কল্যাণকর হয়েছিল।

অপরপক্ষে, কিছু লােক আছে, যাদেরকে সম্পদ, সন্তান-সন্ততি ও সব ধরনের নেয়ামত দ্বারা ভূষিত করা হয়েছে। আবার এ নেয়ামতসমূহই তাদের দুর্দশা ও ধ্বংসের কারণ হয়েছে। তারা তাদের সহজাত প্রকৃতি যা বলত, তা থেকে অর্থাৎ একমাত্র পার্থিব জিনিসই যে সবকিছু নয়-এ কথা থেকে বিচ্যুত হয়ে গিয়েছিল। যারা বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ থেকে বহু উপাধি অর্জন করা সত্ত্বেও অখ্যাতির সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে আছে, তাদের দিকে লক্ষ্য করুন। তাদের মেধা ও ক্ষমতা অকেজোই থাকছে। যখন নাকি অন্যরা যাদের জ্ঞান সীমিত। তাদের যা দান করা হয়েছে তা দিয়েই তাদের নিজেদের ও সমাজের উভয়ের পাহাড়সম উপকার করতে পেরেছেন।

আপনি সুখ সন্ধানী হয়ে থাকলে আল্লাহ তায়ালা আপনাকে যে চেহারা সুরত দিয়েছেন, তাতে আপনার পারিবারিক অবস্থাতে, আপনার কণ্ঠস্বরে, আপনার বুঝ শক্তির স্তরে ও আপনার বেতনের পরিমাণের উপর পরিতৃপ্ত থাকুন। প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে আপনার যা আছে তার চেয়েও কমের উপরও (বা তার চেয়ে কম নিয়েও) নিজেকে পরিতৃপ্ত মনে করা উচিত।

আমাদের পূর্ববর্তী যে সব মুসলিমগণ বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থা মােকাবেলা করে জীবনে উৎকর্ষ সাধন করেছিলেন তার একটি তালিকা নিম্নে আপনাদের দেয়া হল:

আতা ইবনে রাবাহ: তিনি তাঁর সময়ে জগদ্বিখ্যাত একজন আলেম ছিলেন। তিনি শুধু মুক্ত ক্রীতদাস ও নাকবোচাই ছিলেন না, অধিকন্তু পক্ষাঘাতগ্রস্তও ছিলেন।

আল আহনাফ ইবনে কাইছ: তিনি আরবদের মাঝে তার অনন্য ধৈর্যের কারণে প্রসিদ্ধ ছিলেন। শীর্ণ, কুঁজো, পঙ্গু (খোড়া) ও দুর্বল-ভঙ্গুর দেহ হওয়া সত্ত্বেও তিনি ঐ সুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

আল আ-মাশ: তিনি তার সময়ের একজন অতি প্রসিদ্ধ হাদীস শাস্ত্রবিদ ছিলেন। তিনি এক আজাদ ক্রীতদাস ছিলেন। তাঁর দৃষ্টিশক্তি ভালাে ছিল না। তিনি ছিলেন দরিদ্র। তাঁর পােশাক ছিল ছেড়া-ফাটা। তাঁর বেশভূষা ছিল আলুথালু এবং তিনি দরিদ্র জীবন যাপন করতেন।

প্রত্যেক নবীই (আ:) কোন না কোন সময় রাখাল ছিলেন। দাউদ (আ:) কামার ছিলেন, যাকারিয়া (আ:) কাঠমিস্ত্রি ছিলেন ও ইদ্রীস (আ:) দর্জি ছিলেন; তবুও তারা শ্রেষ্ঠ মানব ছিলেন।

অতএব, আপনার দক্ষতা, সকাজ, আচার-আচরণ ও সমাজের প্রতি অবদানের ওপর আপনার মূল্য নির্ভর করে। তাই রূপ-লাবণ্য, সম্পদ বা পরিবার যাই আপনার জীবনে হারিয়েছেন তার জন্য দুঃখ করবেন না এবং আপনার জন্য আল্লাহ তায়ালা যা বরাদ্দ করেছেন, তাতে পরিতুষ্ট থাকুন।

আমিই এ জগতে তাদের মাঝে তাদের জীবিকা বণ্টন করি।” [৪৩-সূরা আয যুখরুফ : আয়াত-৩২]

উৎসঃ লা তাহযান [হতাশ হবেন না], ক্রমিক নংঃ ২৯, পৃষ্ঠা: ৭৬ – ৭৭

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

আপনার মন্তব্য লিখুন