মুসলিম জীবনের আদব-কায়দা পর্ব -১৫

0
1689

লেখক: ড. মো: আমিনুল ইসলাম | সম্পাদনা: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩ | পর্ব ৪ |পর্ব ৫ পর্ব ৬ | পর্ব ৭পর্ব ৮পর্ব ৯পর্ব ১০পর্ব ১১পর্ব ১২পর্ব ১৩পর্ব ১৪ | পর্ব ১৫

ঘুমানোর আদব প্রসঙ্গে

মুসলিম ব্যক্তি মনে করে— ঘুম অন্যতম নিয়ামত, যার দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দগণের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন; আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “তিনিই তাঁর দয়ায় তোমাদের জন্য করেছেন রাত ও দিন, যেন তাতে তোমরা বিশ্রাম করতে পার এবং তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার। আরও যেন তোমরা কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করতে পার।[1]

আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন: “আর তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্রাম।[2]

কারণ, দিনের কর্মব্যস্ততার পর রাতের বেলায় বান্দার বিশ্রাম তার শারীরিক প্রাণচাঞ্চল্যতা, প্রবৃদ্ধি ও উদ্যমের জন্য সহায়তা করে, যাতে সে তার কর্তব্য পালন করতে পারে, যার জন্য তাকে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এ নি‘য়ামতের কৃতজ্ঞতার বিষয়টি মুসলিম ব্যক্তির কাছে জরুরি ভিত্তিতে দাবি করে, সে যাতে তার ঘুমানোর ব্যাপারে নিম্নোক্ত আদবসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখে:

১. ‘ইলমী আলোচনা, অথবা মেহমানের সৌজন্যে কথপোকথন, অথবা পরিবারের দেখাশুনার মত কোন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এশার সালাতের পর তার ঘুমকে বিলম্বিত না করা; কেননা, আবূ বারযা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হাদিস বর্ণনা করেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার সালাতের পূর্বে ঘুমানো এবং তার (এশার সালাতের) পরে কথা বলা অপছন্দ করতেন।[3]

২. অযু করা ছাড়া না ঘুমানোর চেষ্টা করা; কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারা ইবন ‘আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন: “যখন তুমি ঘুমাতে যাবে, তখন অযু করে নাও, যেমনিভাবে তুমি সালাত আদায়ের জন্য অযু করে থাক।[4]

৩. ঘুমানোর শুরুতে তার ডান কাতে শুয়ে পড়া এবং তার ডানপাশকে বালিশরূপে ব্যবহার করা; আর পরবর্তীতে (ডান কাত থেকে) নিজেকে বাম কাতে পরিবর্তন করাতে কোন দোষ নেই। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারা ইবন ‘আযেব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে উদ্দেশ্য করে বলেন: “যখন তুমি ঘুমাতে যাবে, তখন অযু করে নাও, যেমনিভাবে তুমি সালাত আদায়ের জন্য অযু করে থাক। অতঃপর ডান কাতে শুয়ে পড়ো।[5] তিনি আরও বলেন: “তুমি যখন পবিত্র অবস্থায় তোমার বিছানা গ্রহণ করবে, তখন তুমি তোমার ডানপাশকে বালিশরূপে গ্রহণ কর।[6]

৪. রাতে অথবা দিনে ঘুমানোর সময় উপুড় হয়ে না শোয়া; কেননা, হাদিসে বর্ণিত আছে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “এটা জাহান্নামীদের শোয়া। [7] তিনি আরও বলেন: “এটা এমন শোয়া, যা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন না। [8]

৫. হাদিসে বর্ণিত যিকির বা দে‘য়াসমূহ পাঠ করা; যেমন:—

(ক) তেত্রিশ বার « سُبْحَانَ اللهِ ؛ وَالحَمْدُ للهِ ؛ وَاللهُ أكْبَرُ » (আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ সবচেয়ে মহান) বলবে; অতঃপর বলবে: « لا إلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ المُلْكُ ؛ وَلَهُ الحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ » (আল্লাহ ছাড়া উপাসনার যোগ্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসাও তাঁর; আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান)। কেননা, ফাতেমা ও আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তাদেরকে ঘরের কাজে সহযোগিতা করার জন্য একজন খাদেমের আবেদন করলেন,

তখন তিনি তাঁদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন: “তোমরা যা আবেদন করেছ, আমি কি তোমাদেরকে তার চেয়ে উত্তম কিছু শিখিয়ে দিব না? তোমরা যখন শোয়ার জন্য বিছানা গ্রহণ করবে, তখন চৌত্রিশ বার ‘আল্লাহু আকবার’ (اللهُ أكْبَرُ) বলবে, তেত্রিশ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ (سُبْحَانَ اللهِ) বলবে এবং তেত্রিশ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (الحَمْدُ للهِ) বলবে; কারণ, এটা তোমাদের জন্য খাদেমের চেয়ে অনেক বেশি উত্তম। [9]

(খ) সূরা আল-ফাতিহা, সূরা আল-বাকারার প্রথম আয়াত থেকে  ” المفلحون “পর্যন্ত, আয়াতুল কুরসি এবং সূরা আল-বাকারার শেষ অংশ—  ” لله ما في السموات “থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত। কারণ, এ ব্যাপারে উৎসাহিত করে হাদিস বর্ণিত আছে।[10]

(গ) শোয়ার সময় সর্বশেষ এ দে‘য়াটি পাঠ করবে, যা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত: “হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি পার্শ্বদেশ বিছানায় রাখলাম এবং তোমার নামেই তাকে উঠাবো। হে আল্লাহ! যদি তুমি আমার প্রাণ নিয়ে নাও, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দিও; আর যদি তাকে ছেড়ে দাও, তাহলে তুমি তাকে হেফাযত কর সেই জিনিস থেকে, যা থেকে তুমি তোমার নেক বান্দাদেরকে হেফাযত করে থাক। হে আল্লাহ! আমার প্রাণ তোমার নিকট সঁপে দিয়েছি, আমার কাজ তোমার কাছে সোপর্দ করেছি এবং আমার পিঠকে তোমার আশ্রয়ে দিয়েছি; আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার নিকট তাওবা করছি; আমি তোমার ঐ কিতাবের প্রতি ঈমান এনেছি, যা তুমি নাযিল করেছ এবং তোমার সেই নবীর প্রতি ঈমান এনেছি, যাঁকে তুমি প্রেরণ করেছ; সুতরাং তুমি আমাকে সেসব বিষয়ে ক্ষমা করে দাও, যা আমি আগে ও পরে করেছি এবং যা আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে করেছি এবং যে বিষয়ে তুমি আমার চেয়ে বেশি ভাল জান; তুমি প্রথম ও তুমি শেষ, তুমি ছাড়া উপাসনার যোগ্য কোনো সত্য ইলাহ নেই; হে আমার রব! তুমি আমাকে তোমার সে দিনের আযাব থেকে রক্ষা কর, যে দিন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পুনরায় জীবিত করবে।[11]

(ঘ) ঘুমের মাঝখানে যখন সে জেগে উঠবে, তখন বলবে: (আল্লাহ ছাড়া উপাসনার যোগ্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসাও তাঁর; আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ সবচেয়ে মহান; আর অসৎকাজ থেকে বেঁচে থাকার এবং সৎকাজ করার কারও ক্ষমতা নেই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া )। আর সে যেন তার ইচ্ছামতো দো‘য়া করে, ফলে তার দো‘য়া কবুল করা হবেকেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, সেই ব্যক্তি জেগে উঠার সময় বলবে: (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া উপাসনার যোগ্য কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসাও তাঁর; আর তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহ সবচেয়ে মহান; আর অসৎকাজ থেকে বেঁচে থাকার এবং সৎকাজ করার কারও ক্ষমতা নেই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া); অতঃপর দো‘য়া করবে, তার দো‘য়া কবুল করা হবে। আর যদি সে রাত জাগে, তাহলে অযু করবে, তারপর সালাত আদায় করবে, তবে তার সালাত কবুল করা হবে।[12]

অথবা সে (রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত হলে) বলবে: তুমি ছাড়া উপাসনার যোগ্য কোনো সত্য ইলাহ নেই; হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র; আমি তোমার কাছে আমার গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার নিকট তোমার রহমত চাই; হে আল্লাহ! তুমি আমার জ্ঞানকে বৃদ্ধি করে দাও; আর তুমি আমাকে হেদায়াত দান করার পর আমার অন্তরকে বক্র করে দিয়ো না; আর তোমার নিকট থেকে আমাকে রহমত দান কর; নিশ্চয়ই তুমি দানশীল।[13]

৬. ঘুমন্ত ব্যক্তি যখন সকাল বেলায় উপনীত হবে, তখন নিম্নোক্ত যিকির বা দো‘য়াসমুহ পাঠ করবে:

(ক) ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে বিছানা থেকে উঠার পূর্বে বলবে: “সকল প্রশংসা সে আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে মৃত্যু দান করার পর পুনরায় জীবন দান করেছেন; আর তাঁরই নিকট (আমাদেরকে) ফিরে যেতে হবে।” [14]

(খ) যখন সে তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করার জন্য ঘুম থেকে উঠবে, তখন সে আকাশের দিকে তাকাবে এবং  ” إن في خلق السموات و الأرض “থেকে সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করবে; কেননা, আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন: যখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী আমার খালা মাইমুনা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার নিকট রাত্রি যাপন করি, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অর্ধরাত্রি কিংবা এর সামন্য পূর্ব অথবা সামান্য পর পর্যন্ত ঘুমালেন। তারপর তিনি ঘুম থেকে জাগ্রত হলেন এবং দুই হাত দিয়ে মুখ থেকে ঘুমের আবেশ মুছতে লাগলেন; অতঃপর সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত পাঠ করলেন। তারপর ঝুলন্ত একটি পুরাতন মশকের কাছে গেলেন এবং তা থেকে সুন্দরভাবে অযু করলেন। এরপর সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন।[15]

(গ) চারবার এ দো‘য়া পাঠ করবে:হে আল্লাহ! আমি তোমার প্রশংসাসহ সকাল বেলায় উপনীত হয়েছে, আমি সাক্ষী বানিয়েছি তোমাকে, তোমার আরশ বহনকারী ফেরেশ্তাদেরকে, তোমার সকল ফেরেশ্তাকে এবং তোমার সকল সৃষ্টিকে; নিশ্চয়ই তুমি আল্লাহ, তুমি ছাড়া উপাসনার যোগ্য কোনো সত্য ইলাহ নেই; আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার বান্দা ও রাসূল।

কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যে ব্যক্তি তা (উপরিউক্ত দো‘য়াটি) একবার পাঠ করবে, আল্লাহ তার এক-চতুর্থাংশ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দিবেন; আর যে ব্যক্তি তা তিনবার পাঠ করবে, আল্লাহ তার তিন-চতুর্থাংশ জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দিবেন; আর যে ব্যক্তি তা চারবার পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে পুরাপুরিভাবে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে দিবেন।[16]

(ঘ) ঘর থেকে বের হওয়ার জন্য যখন সে দরজার চৌকাঠে পা রাখবে, তখন বলবে: আল্লাহর নামে বের হচ্ছি এবং তাঁর উপর ভরসা করছি। আর অসৎকাজ থেকে বেঁচে থাকার এবং সৎকাজ করার কারও ক্ষমতা নেই আল্লাহর সাহায্য ছাড়া। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যখন কোনো বান্দা (উপরিউক্ত) এই দো‘য়াটি পাঠ করবে, তখন তাকে বলা হবে: ‘তোমাকে হেদায়াত দেয়া হয়েছে এবং তোমাকে যথেষ্ট দেয়া হয়েছে।[17]

(ঙ)যখন দরজার চৌকাঠ ছেড়ে যাবে, তখন বলবে: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই যেন আমি পথভ্রষ্ট না হই অথবা আমাকে পথভ্রষ্ট করা না হয়; অথবা আমি যেন দীন থেকে সরে না যাই অথবা আমাকে দীন থেকে সরিয়ে দেয়া না হয়; অথবা আমি যেন কারও উপর যুলুম না করি অথবা আমার উপর যুলুম করা না হয়। কারণ, উম্মু সালমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই আমার ঘর থেকে বের হতেন, তখন তিনি আকাশের দিকে তাকাতেন এবং বলতেন: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই যেন আমি পথভ্রষ্ট না হই অথবা আমাকে পথভ্রষ্ট করা না হয়; অথবা আমি যেন দীন থেকে সরে না যাই অথবা আমাকে দীন থেকে সরিয়ে দেয়া না হয়; অথবা আমি যেন কারও উপর যুলুম না করি অথবা আমার উপর যুলুম করা না হয়।[18]

পরিশিষ্ট

আল-হামদুলিল্লাহ, যাঁর অসীম অনুগ্রহে আমরা মুসলিম জীবনের আদব-কায়দা’র নানা দিক নিয়ে পনেরটি অধ্যায়ে আলোচনা করার সুযোগ পেয়েছি। আসলে আদব-কায়দা হলো মুসলিম জীবনের অলংকার; সুতরাং যে ব্যক্তি তার জীবনে যত বেশি ইসলামী আদব তথা শিষ্টাচারের সমাবেশ ঘটাতে পারবে, তার জীবন তত বেশি সৌন্দর্যমণ্ডিত হবে এবং পরকালীন জীবনে তার নিশ্চিত সফলতা তো থাকছেই।

এ গ্রন্থে আলোচিত কিছু আদব আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর প্রিয় হাবীব মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সংশ্লিষ্ট; এসব আদব যথাযথভাবে রক্ষা করে চলা মুসলিম ব্যক্তির ঈমানী দায়িত্ব এবং তার ব্যতিক্রম করলে তার ঈমানের ব্যাপারে প্রশ্ন উঠবে! তাছাড়া আরও যেসব আদব বিভিন্ন অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে, সেগুলো একজন মুসলিম ব্যক্তি যথাযথভাবে পালন করতে পারলে সে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে শরী‘য়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ অনেক কর্মকাণ্ড থেকে বেঁচে থাকতে পারবে এবং পাশাপাশি শরী‘য়ত প্রবর্তক কর্তৃক নির্দেশিত অনেক আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক কর্ম সম্পাদনে সক্ষম হবে; আর এ সুবাদে একদিকে সে দুনিয়ার জীবনে একজন ভদ্র ও সভ্য মানুষ হিসেবে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত হবে এবং অপরদিকে পরকালীন জীবনে আল্লাহ তা‘আলার গ্রহণযোগ্য ও প্রিয় বান্দার কাতারে শামিল হয়ে চূড়ান্ত সফলতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে তাঁর দেখানো পথে চলার তাওফীক দিন। আমীন! ছুম্মা আমীন!!

যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা গ্রন্থটি লিপিবদ্ধ করাটাকে সহজ করে দিয়েছেন, তাঁর জন্য প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সকল প্রশংসা নিবেদিত। আর তার জন্য রয়েছে সার্বক্ষণিক প্রশংসা। হে আল্লাহ! তুমি পবিত্র, তোমার জন্য প্রশংসা; আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আমরা তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তোমরা নিকট তাওবা করি।

পর্ব ১ | পর্ব ২ | পর্ব ৩ | পর্ব ৪ |পর্ব ৫ পর্ব ৬ | পর্ব ৭পর্ব ৮পর্ব ৯পর্ব ১০পর্ব ১১পর্ব ১২পর্ব ১৩পর্ব ১৪ | পর্ব ১৫

* * *

[1] সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৭৩
[2] সূরা আন-নাবা, আয়াত: ৯
[3] বুখারী ও মুসলিম।
[4] বুখারী ও মুসলিম।
[5] বুখারী ও মুসলিম।
[6] আবূ দাউদ, হাদিস নং- ৫০৪৯
[7] ইবনু মাজাহ, হাদিস নং- ৩৭২৪
[8] আহমাদ, তিরমিযী ও হাকেম।
[9] মুসলিম, হাদিস নং- ৭০৯০
[10] উদ্ধৃত, আবূ বকর আল-জাযায়েরী, মিনহাজুল মুসলিম, পৃ. ১৮৮
[11] আবূ দাউদ ও অন্যান্য মুহাদ্দিস প্রমুখ হাদিসটি ‘সহীহ’ সনদে বর্ণনা করেছেন।
[12] বুখারী, হাদিস নং- ১১০৩; আবূ দাউদ, হাদিস নং- ৫০৬২
[13] আবূ দাউদ, হাদিস নং- ৫০৬৩
[14] বুখারী।
[15] বুখারী, হাদিস নং- ১৮১, ১১৪০ ও ৪২৯৫
[16] আবূ দাউদ, হাদিস নং- ৫০৭১
[17] তিরমিযী এবং তিনি হাদিসটিকে ‘হাসান’ বলেছেন।
[18] আবূ দাউদ, হাদিস নং- ৫০৯৬

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

আপনার মন্তব্য লিখুন