ভয় [ আপনার অন্তরের অবস্থা পরিবর্তন করুন ]

0
375

fear

লেখক: ড. খালিদ আবু শাদি | অনুবাদক: হাসান মাসরুর

১. আজকের আলোচ্য বিষয়ের ফায়দা

  • ইহসানের স্তর অর্জন করা: হাদিসে জিবরিলে বর্ণিত আছে যে, ‘নবিজি (সা:) ইহসান সম্পর্কে বলেন: ‘তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছ।’ [সহিহুল বুখারি: ৫০, সহিহু মুসলিম: ৮]
  • মুমিনের একটি সিফাত: আল্লাহ তাআলা বলেন: “সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না। আর তোমরা যদি ইমানদার হয়ে থাকো, তবে আমাকেই ভয় করো।” [সুরা আলি ইমরান, ৩ : ১৭৫]
  • আল্লাহর প্রশংসা অর্জন করা: আল্লাহ তাআলা বলেন: “তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত এবং (মনে) আশা ও ভয় নিয়ে আমাকে ডাকত। আর তারা ছিল আমার প্রতি বিনয়াবনত।” [সুরা আল-আম্বিয়া, ২১ : ৯০]
  • আল্লাহ তাআলা ভীত-সন্ত্রস্তদের সাথে জান্নাতের ওয়াদা করেছেন। আল্লাহ বলেন: যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে পেশ হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্য রয়েছে দুটি উদ্যান।” [সুরা আর-রহমান, ৫৫ : ৪৬]
  • ভয় হলো আমাদের নবি মুহাম্মাদ (সা:)-এর গুণ: রাসুল (সা:) বলেন: ‘জেনে রেখো, আল্লাহর শপথ, আমি আল্লাহকে তোমাদের চেয়ে বেশি ভয় করি এবং আমি তোমাদের চেয়ে বেশি তাকওয়া অবলম্বন করি।‘ [সহিহুল বুখারি: ৫০৬৩]
  • ভয় হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাধ্যম: রাসুল (সা:) বলেন: ‘দুই প্রকারের চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। তন্মধ্যে এক প্রকারের চোখ হলো, যা আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে।…‘ [সুনানুত তিরমিজি: ১৬৩৯]

২. কুরআনের আলো

আল্লাহ তাআলা বলেন: আমি তাদের কৃতকর্মের প্রতি মনোনিবেশ করব, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণারূপে করে দেবো।” [সুরা আল-ফুরকান, ২৫ : ২৩]

এই আয়াতটি নেক আমল সঞ্চয় করেছে এমন প্রত্যেকের কর্ণকুহরে চরমভাবে আঘাত করে। রাসুল (সা:) এ ব্যাপারে উম্মতকে সতর্ক করে বলেন:

আমি আমার উম্মতের কতক দল সম্পর্কে অবশ্যই জানি, যারা কিয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালা সমতুল্য নেক আমলসহ উপস্থিত হবে। মহামহিম আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন।’ সাওবান (রা:) বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের নিকট বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই।’ তিনি বললেন, ‘তারা তোমাদেরই ভ্রাতৃগোষ্ঠী এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতোই ইবাদত করবে; কিন্তু তারা এমন লোক যে, একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে লিপ্ত হবে।‘ [সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪২৪৫]

এগুলো হলো একাকী অবস্থার গুনাহ, যা থেকে শুধু ওই ব্যক্তিই বাঁচতে পারে, যার প্রতি আল্লাহ তাআলা অনুগ্রহ করেছেন। এদের কোনো পুরুষ বা নারী যখন একাকী হয়ে যায় এবং মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকে, তখন মন্দ ও পাপের মাধ্যমে আল্লাহর অবাধ্যতা শুরু করে, যেন আল্লাহ তাআলা তাকে দেখছেন না।

সে কি জানে না যে, আল্লাহ দেখেন?” [সুরা আল-আলাক, ৯৬ : ১৪]

৩. রাসুল (সা:) আমাদের আদর্শ

  • রাসুল (সা:) বলেন: আমি (অদৃশ্য জগতের) যা দেখি, তোমরা তা দেখো না; আর আমি যা শুনতে পাই, তোমরা তা শুনতে পাও না। আসমান তো চড়চড় শব্দ করছে, আর সে এই শব্দ করার যোগ্য। তাতে এমন চার আঙুল পরিমাণ জায়গাও নেই, যেখানে কোনো ফেরেশতা আল্লাহ তাআলার জন্য অবনত মস্তকে সিজদায় পড়ে না আছে। আল্লাহর শপথ, আমি যা জানি, তোমরা যদি তা জানতে, তাহলে তোমরা খুব কমই হাসতে, বেশি কাঁদতে এবং বিছানায় স্ত্রীদের উপভোগ করতে না এবং তোমরা পথে-প্রান্তরে বেরিয়ে যেতে আল্লাহর সামনে কাকুতি- মিনতি করতে করতে।‘ [সুনানুত তিরমিজি: ২৩১২, মুসতাদরাকুল হাকিম: ৩৮৮৩]
  • আবু হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত, নবিজি (সা:) বলেন: আমি আমার পরিবারের লোকদের কাছে ফিরে যাই, আমার বিছানায় খেজুর পড়ে থাকতে দেখি। খাওয়ার জন্য আমি তা তুলে নিই। পরে আমার ভয় হয় যে, হয়তো তা সদাকার খেজুর হবে, তাই আমি তা রেখে দিই।’ [সহিহুল বুখারি: ২৪৩২, সহিহু মুসলিম: ১০৭০]

৪. অমূল্য বাণী

  • উমর বিন মাসলামা আল-হাদ্দাদ আন-নিশাপুরী বলেন, ‘ভয় হলো হৃদয়ের বাতি। এর মাধ্যমে সে হৃদয়ের কল্যাণ ও অকল্যাণ দেখতে পারে। আর মানুষ যে জিনিসকে ভয় করে, তা থেকে সে পালিয়ে থাকে। তবে আল্লাহ তাআলার ব্যাপারটি ভিন্ন। কারণ, যখন তাঁকে ভয় করা হয়, তখন তাঁর দিকেই ছুটে যাওয়া হয়। ‘
  • হাসান (রা:) বলেন, ‘আল্লাহকে শুধু মুমিনগণই ভয় করে। আর মুনাফিকরাই তাঁর ব্যাপারে নির্ভয়ে থাকে।’
  • আবু সুলাইমান (রা:) বলেন, ‘যে হৃদয়ই ভয়শূন্য হয়ে গেছে, তা নষ্ট হয়ে গেছে।’
  • ইবরাহিম বিন সুফইয়ান (রা:) বলেন, ‘ভয় যদি হৃদয়গুলোতে স্থান করে নেয়, তাহলে কামনার স্থানসমূহকে তা জ্বালিয়ে দেয় এবং হৃদয় থেকে দুনিয়াকে তাড়িয়ে দেয়।’
  • মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন শিখখির (রা:) বলেন, “প্রিয় ভাইয়েরা, তোমরা মেহনতের সাথে আমল করে যাও। যদি আমাদের আশা অনুযায়ী আল্লাহর রহমত ও মাগফিরাত পেয়ে যাই, তা হলে তো জান্নাতে যাওয়ার সৌভাগ্য হবে। আর যদি আমাদের আশঙ্কা অনুযায়ী এর বিপরীত কিছু হয়, তা হলে কমপক্ষে এ আর্তনাদ থেকে বেঁচে গেলাম : “হে প্রভু, আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে নেক আমল করার সুযোগ করে দিন।”
  • ইবনুল কাইয়িম (রা:) বলেন, ‘সালাফগণ যখন সুস্থ থাকতেন, তখন আশার ওপর ভয়ের দিকটিকে শক্তিশালী করতেন। আর যখন দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণের সময় হতো, তখন ভয়ের ওপর আশার দিকটিকে শক্তিশালী করতেন।’
  • আবু হামিদ গাজালি (রা:) বলেন, “কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা থেকে শুধু তারাই নিরাপদ থাকবে, যারা দুনিয়াতে সেদিনের ব্যাপারে দীর্ঘ ফিকির করেছে। কারণ, আল্লাহ তাআলা বান্দার মাঝে দুই স্থানের ভয় একত্রিত করবেন না। সুতরাং যে সে ভয়াবহ দিনকে দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় ভয় করেছে, তাকে আল্লাহ সেদিন নিরাপত্তা দেবেন। আর আমি ভয় দ্বারা সে ভয়কে বুঝাচ্ছি না, যা মহিলাদের বিলাপের মতো হয়ে থাকে।

ওয়াজের সময় আপনার অন্তর বিগলিত হলো এবং অশ্রু গড়িয়ে পড়ল, তারপর খুব দ্রুতই তা ভুলে গিয়ে নিজের পেছনের খেল-তামাশায় মত্ত হলেন, এটি কোনো ভয় নয়। যে কোনো জিনিসকে ভয় করে, সে তা থেকে পালিয়ে বেড়ায়। আর যে কোনো জিনিসের প্রত্যাশা করে, সে তা খুঁজে বেড়ায়। সুতরাং সেদিন আপনাকে সেই ভয় রক্ষা করবে, যা অবাধ্যতা থেকে আপনাকে বারণ করবে এবং আনুগত্যের প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে।’

মহিলাদের বিলাপের চেয়ে ভয়াবহ হলো, নির্বোধ লোকদের ভয়। যখন তারা কোনো ভয়ের বিষয় শ্রবণ করে, তখন মুখে খুব দ্রুত ‘আল্লাহর পানাহ চাই’ বলে। তাদের কেউ বলে, ‘আল্লাহর সাহায্য চাচ্ছি। হে আল্লাহ, বাঁচাও, বাঁচাও।’ কিন্তু তারপরেও তারা অবাধ্যতায় অটল থাকে, যা তাদের ধ্বংসের কারণ হয়। তার আশ্রয় প্রার্থনা দেখে শয়তান হাসে, যেমন ওই ব্যক্তিকে নিয়ে হাসা হয়, যে একটি দুর্গের সামনের খোলা প্রান্তরে আছে, আর তাকে কোনো হিংস্র প্রাণী টার্গেট করেছে। দূর থেকে যখন সে ওই প্রাণীটির থাবা ও গর্জন দেখছে, তখন মুখে মুখে বলছে, ‘আমি এই শক্ত দুর্গের আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং তার কঠিন গঠন ও শক্ত ভিত্তির সাহায্য গ্রহণ করছি।’

সে মুখে মুখে এ কথা বলছে; কিন্তু নিজের জায়গা থেকে নড়ছে না। আখিরাতের বিষয়টিও এমন । আর তার একমাত্র দুর্গ হলো, সত্য দিলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা। সত্য দিলের অর্থ হলো, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য না থাকা এবং তিনি ভিন্ন অন্য কোনো বাতিল মাবুদও লক্ষ্য থাকে না।

৫. চমৎকার কাহিনি

  • আবুল ইয়াসার (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ‘এক মহিলা খেজুর ক্রয়ের জন্য আমার নিকট এলে আমি তাকে বললাম, “ঘরের ভেতর এর চাইতে ভালো খেজুর আছে।” অতএব সে আমার সাথে ঘরে প্রবেশ করে। আমি তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ি এবং তাকে চুমো দিই। অতঃপর আমি আবু বকর (রা:) এর নিকট এসে তাঁকে ঘটনা জানালাম। তিনি বললেন, “এটা নিজের কাছেই গোপন রাখো এবং আল্লাহ তাআলার নিকট তাওবা করো এবং আর কাউকে বলো না।” কিন্তু আমি ধৈর্যধারণ করতে পারলাম না। তাই আমি উমর (রা:)-এর কাছে এসে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন, “এটা নিজের কাছেই গোপন রাখো এবং আল্লাহ তাআলার নিকট তাওবা করো এবং এটা আর কারও নিকট বলো না।”

কিন্তু আমি ধৈর্য ধরতে পারলাম না। তাই আমি রাসুল (সা:)-এর কাছে এসে তাঁর নিকট বিষয়টি প্রকাশ করলাম। তিনি বললেন, “তুমি কি আল্লাহ তাআলার রাস্তায় জিহাদে গমনকারী ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের সাথে এই অপকর্ম করেছ?”” এ কথায় অনুতপ্ত হয়ে আবুল ইয়াসার আক্ষেপ করে বলেন, তিনি যদি ইতিপূর্বে ইসলাম গ্রহণ না করে এই মুহূর্তে গ্রহণ করতেন! এমনকি তিনি নিজেকে জাহান্নামি ভাবলেন। রাসুল (সা:) দীর্ঘক্ষণ নীরবে দৃষ্টি অবনমিত করে রইলেন। অবশেষে তাঁর প্রতি ওহি অবতীর্ণ হলো,

 

তুমি সালাত কায়িম করো দিনের দুই প্রান্তভাগে এবং রাতের প্রথমাংশে । পুণ্যরাজি পাপরাশিকে দূর করে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে এটা তাদের জন্য উপদেশ।” [সুরা হুদ : ১১৪] আবুল ইয়াসার বলেন, “আমি রাসুল -এর নিকট এলে তিনি আমাকে উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করে শুনান। তখন তাঁর সাহাবিগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, এটা কি তার জন্যই নির্দিষ্ট, না সাধারণভাবে সকলের জন্য ?” তিনি বললেন, “বরং সাধারণভাবে সকলের জন্য।” [সুনানুত তিরমিজি: ৩১১৫]

  • আবু সাইদ খুদরি (রা:) নবিজি (সা:) থেকে বর্ণনা করেন: তিনি পূর্ববর্তী জনৈক লোকের কথা উল্লেখ করলেন, যাকে আল্লাহ তাআলা সম্পদ ও সন্তান দান করেছিলেন। যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, সে তার সন্তানদের বলল, “আমি তোমাদের কেমন পিতা ছিলাম?” তারা বলল, “উত্তম পিতা।” সে বলল, “সে তো আল্লাহর নিকট কোনো কল্যাণ জমা করেনি, আল্লাহ তাকে পেলে অবশ্যই শাস্তি দেবেন। তোমরা এক কাজ করো, আমি যখন মারা যাব, আমাকে জ্বালিয়ে দেবে, যখন আমি কয়লায় পরিণত হব আমাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলবে, অতঃপর যখন প্রচণ্ড ঝড়ের দিন হবে, আমাকে তাতে ছিটিয়ে দেবে।”

নবিজি (সা:) বলেন, ‘সে এ জন্য তাদের থেকে ওয়াদা নিল। আমার রবের কসম, তারা তা-ই করল, অতঃপর প্রচণ্ড ঝড়ের দিনে ছিটিয়ে দিল । অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন,“হও”। ফলে সে দণ্ডায়মান ব্যক্তিতে পরিণত হলো। আল্লাহ বললেন, “হে আমার বান্দা, কিসে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে যে, তুমি যা করার করেছ?” সে বলল, “আপনার ভয়।” তিনি বললেন, ‘আল্লাহর দয়া ব্যতীত অন্য কিছু তাকে উদ্ধার করেনি।‘ [সহিহুল বুখারি: ৭৫০৮]

৬. রমাদানে ভয়

  • আপনি যে গুনাহে লিপ্ত হয়েছেন, তার কারণে রোজা কবুল না হওয়ার ভয়।
  • ক্ষমা ছুটে যাওয়ার ভয়।
  • কদরের রাত্রি না পাওয়ার ভয়।
  • বরং রমাদানের আগেও এই ভয় থেকে যায় যে, আপনি রমাদান পাবেন না এবং তার পূর্বেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাবেন।

৭. দুআ

  • হে আল্লাহ, আমি যেন আপনাকে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—সর্বাবস্থায় ভয় করতে পারি, আমাকে সেই তাওফিক দান করুন।
  • হে আল্লাহ, আমাকে মানুষের মাঝে আপনার ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি জ্ঞাত এবং আপনাকে সর্বাধিক ভয় করার তাওফিক দিন।
  • হে আল্লাহ, আমাদের মাঝে সে ভয় দান করুন, যার কারণে আমাদের মাঝে ও আপনার অবাধ্যতার মাঝে পর্দা পড়ে যাবে।

৮. ভয়ের সূর্য হারিয়ে গেছে

  • গোপন গুনাহ ছড়িয়ে পড়েছে এবং নির্জনে আল্লাহর সাথে খিয়ানত করা হচ্ছে।
  • কিছু মানুষ গুনাহের অনুভূতি হারিয়ে প্রকাশ্যে অবাধ্যতায় লিপ্ত হচ্ছে। এমনকি তারা এই পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে যে, এখন তারা গুনাহকে ভালো মনে করছে এবং তা নিয়ে গর্বও করছে। আল্লাহর দৃষ্টির ভয় তো দূরের কথা মানুষের দেখার ভয়ও করছে না।

৯. যথেষ্ট কথা হয়েছে, এখন আমল দেখার বিষয়

  • আমি ভয়ের স্তরটি অর্জন করব। ভয় হলো সে ভয়, যা ইলমের সাথে হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন: “আল্লাহর বান্দাদের মাঝে আলিমগণই তাঁকে ভয় করে।” [সুরা ফাতির, ৩৫ : ২৮]

  • আমি প্রকাশ্যে যা করি, গোপনে তার বিপরীত করব না। (হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য—সর্বাবস্থায় আপনাকে ভয় করার তাওফিক প্রার্থনা করছি।)
  • আমি আল্লাহ তাআলার সব ধরনের ভয়ের স্তর অর্জনের চেষ্টা করব।
  • গুনাহের শাস্তির ভয় করব। সাবধান, গুনাহকে তুচ্ছ মনে করবেন না।
  • জাহান্নামের আগুনকে ভয় করব : জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচব, যদিও এক টুকরা খেজুর সদাকা করার দ্বারা হয়।
  • মন্দ অবস্থায় মৃত্যুর ব্যাপারে ভীত থাকব। হাদিসে বর্ণিত আছে: তোমরা আমলকারীর আমল দেখে অবাক হয়ো না; যতক্ষণ না দেখো, তার পরিণাম কী হয়।‘ [তাবারানি (রা:) কৃত আল-মুজামুল কাবির : ৮০২৫]
  • ইবাদত কবুল না হওয়ার ব্যাপারে ভয় করব। রাসুল (সা:) বলেন: ‘না, হে সিদ্দিকের মেয়ে, যারা সিয়াম পালন করে, সালাত আদায় করে এবং দান-খয়রাত করে তারাই ভয় করবে যে, তাদের এগুলো কবুল হলো কি না।‘ “তারাই কল্যাণকর কাজে দ্রুত ছুটে যায়। এবং তাতে তারা অগ্রগামী।” [সুনানুত তিরমিজি: ৩১৭৫ । সুরা আল-মুমিনুন, ২৩ : ৬১ ]
  • নিফাকের ভয় করব। যেমন উমর বিন খাত্তাব (রা:) হুজাইফা (রা:) কে বলেন, ‘রাসুল কি মুনাফিকদের মাঝে আমার নামও উল্লেখ করেছেন?’
  • ইলম অনুযায়ী আমল না করার ব্যাপারে ভয় করব। আবু দারদা (রা:)  বলেন, ‘আমি সর্বপ্রথম আমার রব আমাকে যে প্রশ্ন করবেন বলে ভয় করি, তা হলো, তিনি বলবেন, “তুমি জানো, আর তোমার জানা অনুযায়ী তুমি কী আমল করেছ?”
  • কিয়ামত দিবসকে ভয় করব। হাসান(রা:) বলেন, ‘তোমাদের পূর্বে এমন কিছু দল অতিবাহিত হয়েছেন, যদি তারা এই কণা সমপরিমাণ দান করতেন, তাহলেও ভয় করতেন যে, সেদিনের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পাবেন না।’

১০. স্বার্থপর হবেন না

  • কথাগুলো আপনার মসজিদের মুসল্লি ও আপনার সহপাঠী-সহকর্মীদের মাঝে আলোচনা করুন।
  • এই বইটি নিজে পাঠ করে অন্যদেরকেও পড়তে দিন; যেন তারা এর থেকে উপকৃত হতে পারে।
  • মসজিদের ইমামকেও বইটি হাদিয়া দিতে পারেন; যেন তিনি জুমআর খুতবা বা তারাবিহ-পরবর্তী আলোচনায় এর থেকে ফায়দা গ্রহণ করতে পারেন।

উৎস: রমাদান-আত্মশুদ্ধির বিপ্লব, পৃষ্ঠা: ২৮২ – ২৯৩

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Whatsapp, Telegram, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। ইসলামি দা’ওয়াহ্‌র ৮০ টিরও বেশী উপায়! বিস্তারিত জানতে এইখানে ক্লিক করুন "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

দ্বীনী খিদমায় অংশ নিন

আপনার মন্তব্য লিখুন