জান্নাতের কথা স্মরণ করুন

0
41

লেখকঃ ড. আয়িদ আল করনী | অনুবাদঃ ডা. হাফেজ মাওলানা মােহাম্মদ নূর হােছাইন

(এ শিরােনামটি ২২তম সংস্করণের আরবী পুস্তক থেকে নেয়া হয়েছে। ইংরেজি পুস্তকে এ বাক্যটি পূর্ববর্তী অধ্যায়ে আছে-আলাদা শিরােনামে নেই। তাই অধ্যায়টি দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ছিল। এখন পৃথক শিরােনামে অধ্যায়টি ক্ষুদ্রতর ও সহজপাঠ্য করা হল। আশা করি এ বিষয়ে পাঠকবৃন্দ একমত হবেন। -অনুবাদক)

এ পৃথিবীতে আপনি যদি ক্ষুধার্ত, দুঃখিত, রুগ্ন ও অত্যাচারিত হন, তবে চিরস্থায়ী পরম স্বর্গসুখের কথা স্মরণ করুন। আপনি যদি এমনটি ভাবেন তবে আপনার লােকসান সত্যি সত্যিই লাভে পরিণত হবে ও আপনার দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অনটন সত্যিই উপহারে পরিণত হবে।

পরকালের জন্য যারা আমল করে তারাই বিজ্ঞতম (সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী ব্যক্তি। কেননা, পরকাল (আখেরাত) দুনিয়ার তুলনায় উত্তম ও চিরস্থায়ী। সবচেয়ে বােকা লোেক তারাই যারা দুনিয়াকে প্রাধান্য দিবে তাদের চিরস্থায়ী আবাসস্থল মনে করে। এতেই তাদের সব আশা-ভরসা। এরা যখন দুর্বিপাকে পড়ে তখন আপনি এদেরকে সবচেয়ে বেশি দুঃখিত দেখতে পাবেন। পার্থিব ক্ষতির কারণে তারা সবচেয়ে বেশি বিচলিত হয় শুধু এ কারণে যে, তারা যে তুচ্ছ জীবনযাপন করে-এর বাইরে তারা কোন কিছুই দেখতে পায় না। তারা শুধু এই অস্থায়ী জীবনটাই দেখে ও শুধু এর কথাই ভাবে। তারা চায় না যে, কোন কিছু তাদের পরম সুখকে মাটি করে দিক। যদি তাদের চোখ থেকে মুখতার পর্দা সরানাে হত তবে তারা চিরস্থায়ী আবাস, এর নেয়ামত, আনন্দ ও প্রাসাদসমূহের সাথে একাত্ববােধ করত ও কুরআন সুন্নাহের মাধ্যমে তাদেরকে আখেরাত সম্বন্ধে অবহিত করা হলে তারা তা মনোেযােগ সহকারে শ্রবণ করত।

বাস্তবিকই, আমাদের উচিত আখেরাতের বাড়ির প্রতি মনােনিবেশ করা। ঐ বাড়ির মালিক হওয়ার জন্য চেষ্টা-তদবীর করা, যাতে আমরা এর সর্বোত্তমটি (জান্নাতুল ফেরদাউস) অর্জন করতে পারি। বেহেশতবাসীদের বর্ণনা সম্বন্ধে আমরা কি বিস্তারিতভাবে চিন্তাভাবনা করে দেখেছি? তাঁরা অসুস্থ হবে না, দুঃখ তাদের কাছেও ঘেঁষবে না, তাঁরা মরবে না, তারা চিরকুমার থাকবে এবং তাদের পােশাক-পরিচ্ছদ থাকবে উত্তম, নিখুঁত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তারা সুন্দর গৃহে অবস্থান করবে।

জান্নাতে এমন জিনিস পাওয়া যাবে, যা কোন চক্ষু কখনাে দেখেনি, কোন কান কখনাে শুনেনি এবং মানব মন কখনাে যার কল্পনাও করেনি। আরােহী ব্যক্তি একশত বছর একটি গাছের নিচে ভ্রমণ করেও এর শেষ সীমায় পৌছতে পারবে না। বেহেশতে একটি তাঁবুর দৈর্ঘ্য হবে ষাট মাইল। জান্নাতের নদীগুলাে সদা প্রবাহিত, এর প্রাসাদগুলাে বিশাল বিশাল এবং এর ফলগুলাে শুধুমাত্র হাতের নাগালের মধ্যেই নয়; অধিকন্তু, অতি সহজেই তােলা যাবে (মন চাওয়া মাত্রই হাতে চলে আসবে। -অনুবাদক)

সেখানে (বেহেশতে) প্রবাহমান ঝর্ণা থাকবে। সুউচ্চ আসন থাকবে। আর থাকবে হাতের কাছে প্রস্তুত পান পাত্র, সারি সারি গদি ও বিছানাে গালিচা।” [৮৮-সূরা আল গাশিয়াহ : আয়াত-১২-১৬]

জান্নাতের সুখ হবে অসীম। তবে কেন আমরা বিষয়টিকে গভীরভাবে ভেবে দেখছি না? স্বৰ্গই যদি আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হয় আর আমরা যদি আল্লাহর নিকট বেহেশতই চেয়ে থাকি-তবে এ দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট যতটা দুর্বহ মনে হয় তার চেয়ে অনেক কম ভারী মনে হওয়ার কথা। অতএব, (এমনটি ভেবে) দুর্দশাগ্রস্তদের আত্মা শান্তি পাক।

ওহে, আপনারা যারা এ দরিদ্র জীবন যাপন করছেন বা দুর্বিপাকে পতিত সকর্ম (নেক আমল) করুন, তাহলেই আপনারা আল্লাহর জান্নাতে বাস করতে পারবেন।

তােমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হােক, কেননা, তােমরা ধৈর্য ধারণ করেছিলে । চূড়ান্তগৃহ বাস্তবিক কতই না উত্তম!” [১৩-সূরা রা’আদ : আয়াত-২৪]

উৎসঃ লা তাহযান [হতাশ হবেন না], ক্রমিক নংঃ ৩০, পৃষ্ঠা: ৭৮ – ৭৯

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

আপনার মন্তব্য লিখুন