এক গুনাহগার ব্যক্তির গল্প

0
64

লেখক: ড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী | অনুবাদক: রাশেদুল আলম

এখন আমরা এক গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির গল্প বলবাে, এক মদ্যব লােকের গল্প বলবাে। আবু মিহজান আস-সাকাফি রা.-এর গল্প বলবাে।মদের প্রতি প্রচণ্ড আসক্তি থাকার কারণে জাহেলিয়াতে থাকাঅবস্থায় আবু মিহজান আস-সাকাফি একটি কবিতায় তার ছেলেকে অসিয়ত করে বলেছিলাে‘আমি যখন মারা যাবাে, তখন তুমি আমাকে আঙ্গুর বাগানের পাশেকবর দিবে। যাতে আমার মৃত্যুর পরে আমার হাড্ডিগুলাে এর রস পান করতে পারে।’ ‘তুমি আমাকে নির্জন প্রান্তরে দাফন করাে না, কারণ আমার ভয় হয় যে, তাহলে আমি মরে গেলে এর (মদের) স্বাদ আর কখনাে গ্রহণ করতে পারবাে না। অতঃপর যখন ইসলামের আগমন ঘটলাে, আবু মিহজান আস-সাকাফি রা, ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পরও তিনি মদ পান করতেন। এরপর মদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে যখন শরয়ি হুকুম জারি হল, আল্লাহ তাআলা এই আয়াত নাযিল করলেন:

হে মুমিনগণ! এই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কার্য বৈ কিছু নয়। অতএব, এগুলাে থেকে বেঁচে থাকো, যাতে তােমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও। শয়তান তাে চায় মদ ও জুয়ার মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণ ও নামায থেকে তােমাদেরকে বিরত রাখতে। অতএব তােমরা কি নিবৃত্ত হবে? [সুরা মাইদা, আয়াত : ৯১]

তখন সাহাবায়ে কেরাম রা. বললেন, হে আমাদের রব! আমরা তাে ধ্বংস হয়ে গেছি। হে আমাদের রব! আমরা তাে ধ্বংস হয়ে গেছি। আবু মিহজান রা.ও বললেন, হে আমাদের রব! আমরা তাে ধ্বংস হয়ে গেছি, আমরা তাে শেষ হয়ে গেছি। যখন মদ পান হারাম হয়ে গেল, তখন আবু মিহজান রা. কী করলেন?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় আবু মিহজান রা. কখনাে কখনাে মদ পান করতেন আর তখন তাকে এর হদ-শাস্তি হিসেবে বেত্রাঘাত করা হত। এরপর তিনি আবারও মদ পান করতেন এবং তাঁকে আবারও এর হদ হিসেবে বেত্রাঘাত করা হত। তিনি কিছুদিন মদ পান করা থেকে বিরত থাকতেন; কিন্তু এর কিছুদিন পরই আবার শয়তান তাঁকে ধোঁকা দিত আর তিনি মদ পানে লিপ্ত হতেন, তখন তার উপর এর হদ প্রয়ােগ করা হতাে; কিন্তু তিনি কখনই ইমান থেকে বের হননি এবং সালাত আদায় করা ত্যাগ করেন নি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুনাহগারদের সাথে সবসময় ভাল ব্যবহার করতেন। কেউ যদি এমন কোনাে অন্যায় করতাে যার জন্য শরিয়তে হদ বা শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে, তাহলে তিনি এর জন্যে তাঁর উপর শরয়ি হদ প্রয়ােগ করতেন; কিন্তু এরপর তার সাথে ভাল ব্যবহার করতেন, তাঁকে সৎকাজের জন্যে উৎসাহ দিতেন, গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার জন্যে উদ্বুদ্ধ করতেন। তিনি গুনাহগার ভেবে তাঁকে দূরে ঠেলে দিতেন না।

মদ পান করা একটা খারাপ কাজ, সে মদ পান করলাে মানে একটা খারাপ কাজ করল, অতঃপর যদি সালাত আদায় করে, তাহলে সে একটা ভাল কাজ করলাে। যেহেতু মদ পান করাটা অনেক বড় একটা পাপ এবং এর প্রভাব মানুষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বাকি থাকে আর সালাত অল্প সময়ের ইবাদত, তাই আমরা ধরে নিতে পারি যে, তার মধ্যে ভালাের পরিমাণটা হল ত্রিশ পার্সেন্ট (৩০%) আর খারাবির পরিমাণটা সত্তর পার্সেন্ট ৭০%। মদ পান করা সত্ত্বেও সে যেহেতু সালাত আদায় করে, তাহলে আমাদের বলতেই হবে যে, তার মধ্যে আল্লাহর মুহাব্বত ও ইসলামের ভালবাসা আছে। যদিও তা পরিমাণে কম, মানে একশত পার্সেন্টের মধ্যে তিরিশ পার্সেন্ট মাত্র। তবুও কিন্তু তার মধ্যে আল্লাহ তাআলার মুহাব্বত আছে। এটা বলা যাবে না যে, তার মধ্যে আল্লাহর মুহাব্বত একেবারেই নেই। এরপর আসুন মদ পান করার সাথে সাথে সে দান-সদকা করে, সন্তান লালনপালন করে, মাতা-পিতার সেবা-যত্ন করে। অর্থাৎ আরাে অনেকগুলাে ভাল কাজ সে করে। তাহলে আমরা এটা ধরে নিতে পারি যে, সে একটা খারাপ কাজ করার বিপরীতে অনেকগুলাে ভাল কাজ করে। অর্থাৎ এখন যদি আমরা পার্সেন্টিসের হিসেবটা করি তাহলে এমন দাঁড়াবে যে, তার মধ্যে খারাপ বা মন্দ কাজের প্রবণতা ৩০% অথবা ৪০% আর ভালাের প্রবণতা ৭০% বা ৬০%।

অর্থাৎ তার ভালাের পরিমাণটা খারাপের চেয়ে বেশি। তাহলে আমাদের উচিত হবে তাঁকে সহাভূতির সাথে ভালকাজের প্রতি আরাে বেশি উৎসাহিত করা। আমাদের জন্যে কখনই এটা উচিত হবে না যে, তাঁর সাথে খারাপ ব্যবহার করা। তুমি মদ পান করাে, সুতরাং তুমি আমাদের থেকে দূরে থাকো, আমাদের কাছে আসবে না; একথা বলে তাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া আমাদের জন্যে কখনই উচিত হবে না। তাহলে সে ভালাের দিকে আসার পরিবর্তে দিন দিন আরাে বেশি করে খারাপের মধ্যে ডুব দিতে থাকবে। অর্থাৎ খারাপের মধ্যে ৪০% থেকে ৪৫% চলে যাবে, এরপর আমরা যখন তার সাথে আরাে বেশি খারাপ আচরণ করবাে তখন সেই পরিমাণটা আরাে বাড়তে থাকবে, অর্থাৎ ৪৫% থেকে ৫০% চলে যাবে। বরং তার সাথে আমাদের ভাল ব্যবহার করা উচিত। আমরা যদি তার সাথে খারাপ ব্যবহারের পরিবর্তে ভাল ব্যবহার করি, সহানুভূতির সাথে তাকে বলি যে, ভাই তুমি মদ পান করাে ঠিক আছে; কিন্তু তুমি তাে মাতা-পিতার খেদমত করাে। ইন-শা-আল্লাহ তাদের দোয়ার বরকতে একদিন তুমি তাওবা করবে মদ পান ছেড়ে দিবে। তুমি তাে সালাত আদায় করাে, তুমি সালাত আদায় করতে থাকো, ইন-শা-আল্লাহ একদিন দেখবে সালাত তােমাকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে’ আর মদ পানও তাে একটা খারাপ কাজ, সালাত তােমাকে সেটা থেকেও বিরত রাখবে। আমরা যখন তাকে এভাবে ভাল কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে থাকবে তখন ধীরেধীরে তার মধ্যে ভাল কাজের পরিমাণটা বাড়তে থাকবে এবং খারাপ কাজের প্ররিমাণটা আস্তে আস্তে কমতে থাকবে।

আবু মিহজান রা.-এর ঘটনা শেষ করার পূর্বে অন্য আরেকজনের একটি ঘটনা বলি। আবদুল্লাহ নামে এক সাহাবি ছিলেন যাকে মানুষ হাম্মার (গাধার মালিক) বলে ডাকত। এটা তাঁকে তিরস্কার করে বা গালি দিয়ে ডাকত না। যেমন আমরা বর্তমানে কাউকে ‘বাজ’ বলে সম্বােদন করে তাঁর ধূর্ততা ও চালাকি বুঝায়, এর মাধ্যমে তাঁকে কিন্তু একটি হিংস্র পাখি বুঝায় না বরং তার ধূর্ততা ও চালাকি বুঝায়। অনুরূপভাবে সাহসী লােককে আমরা সিংহের সাথে তুলনা করি, তাকে সিংহ বলার মাধ্যমে আমরা বনের কোনাে হিংস্র প্রাণী বুঝাই না। পূর্বেও মানুষ একজন অপরজনকে এধরনের বিভিন্ন খেতাবে ডাকত। সুতরাং তারা ধৈর্যশীল মানুষকে হাম্মার বলে ডাকত। আবদুল্লাহ আল-হাম্মার রা. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনেক মুহাব্বত করতেন। তিনি সর্বদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিছু হাদিয়া দিতে চাইতেন; কিন্তু তিনি ছিলেন দরিদ্র, তার টাকা-পয়সা ছিলাে না।

তিনি একবার বাজারে গেলেন, তখনকার বাজারও এখনকার বাজারের মত ছিলাে না, তখন মানুষ বিভিন্ন জায়গা থেকে পণ্য নিয়ে বাজারে যেতাে এবং বিক্রি করে চলে আসতাে।এই সাহাবিও বাজারে গেলেন এবং তার একটা জিনিস পছন্দ হল, সে তার মালিকের সাথে দর-দাম করে তাকে বললেন, ঠিক আছে তুমি আমার সাথে আসাে, আমি তােমাকে এর মূল্য পরিশােধ করে দিচ্ছি। সাহাবি লােকটিকে সঙ্গে করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসলেন এবং তাঁকে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এটা আপনার জন্যে হাদিয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার হাদিয়া গ্রহণ করলেন, তখন সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি এটার মূল্য পরিশােধ করে দিন, একথা শুনে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকাল এবং বললাে, এটাকি তুমি আমাকে হাদিয়া দাওনি?

সে বলল, হাঁ! হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এটা আমার পক্ষ থেকে আপনার জন্যে হাদিয়া; কিন্তু আমি দরিদ্র মানুষ, আমার কোনাে টাকা-পয়সা নেই, তাই আপনি এটার মূল্য পরিশােধ করে দিন। সুবহানাল্লাহ! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর মুহাব্বত ছিলাে এমনই অকৃত্তিম। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মূল্য পরিশােধ করে দিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে লােকটির ভালােবাসা ছিলাে চমৎকার; সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অত্যন্ত মুহাব্বত করতাে; কিন্তু লােকটি মদ পান করতাে, কারণ সে জাহেলি যুগ থেকেই ছিলাে মদাসক্ত। তাঁকে এ কাজ থেকে অনেক নিষেধ করা হতাে; কিন্তু কখনাে কখনাে তাঁর মনদুর্বল হয়ে যেতে আর সে মদ পান করতাে। সে যখনই মদ পান করতাে তখন তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নিয়ে আসা হত এবং এর শাস্তিস্বরূপ তাঁকে বেত্রাঘাত করা হত, অতঃপর সে চলে যেতাে। এভাবেই একদিন তাঁকে মদ পান করার শাস্তি দেওয়ার পর সে বের হচ্ছিল, তখন এক সাহাবি তাকে বললাে, তােমার উপর আল্লাহর লানত বর্ষিত হােক, এতবার শাস্তি দেওয়ার পরও তুমি মদ পান করাে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি তাকে লানত করাে না, কারণ আমি জানি সে আল্লাহ ও তার রাসুলকে মুহাব্বত করে, তাদের ভালবাসে।

অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কল্যাণের দিকে, তার ভাল কাজের দিকে লক্ষ করেছেন; তাঁর মন্দ দিকটির প্রতি কিন্তু তিনি লক্ষ করেন নি এবং বারবার মদ পান করার পরও তাকে তিরস্কার করেন নি। বরং তাকে সৎ ও ভাল কাজের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন।

আবু মিহজান রা. ছিলেন একজন সৎ, নেককার ও মুত্তাকি লােক; কিন্তু কখনাে কখনাে তাঁর পা পিছলে যেতাে, তিনি মদ পান করে ফেলতেন। কাদিসিয়ার যুদ্ধের সময় তিনিও মুজাহিদিনের সাথে যুদ্ধে বের হলেন। যুদ্ধের আমির ছিলেন সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.। ময়দানে পৌছার পর সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা. এবং কাফের সেনাপতির মধ্যে দীর্ঘ পত্র আদানপ্রদান হল। এটা অনেক দিন চলতে থাকল। এই সময়ে আবু মিহজান রা.-এর মদের প্রতি আগ্রহ দেখা হল এবং ধীরেধীরে তা চূড়ান্ত আকার ধারণ করল; কিন্তু তিনি এখানে এত মুজাহিদিনের মধ্যে কীভাবে মদ পান করবেন?

আবু মিহজান রা. লুকিয়ে একটি নিরাপদ স্থানে চলে গেলেন এবং চারপাশটা ভালভাবে দেখে নিয়ে মদ পান করলেন; কিন্তু তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ধরা পড়লেন। তাকে গ্রেফতার করে আমিরুল মুজাহিদিন আমির সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.-এর নিকট নিয়ে আসা হল। সা’দ রা. তাকে ধরে একটি ঘরের মধ্যে বন্দিকরে রাখলেন এবং তাকে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে নিষেধ করে দিলেন। তখন আবু মিহজান রা, কী করলেন? তিনি কি এটাকে নিজের জন্যে আশির্বাদ মনে করে হাত-পা গুটিয়ে বসে রইলেন? না, আবু মিহজান রা, বরং নিজের জন্যে এটাকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের বিশাল সাওয়াব থেকে নিজেকে বঞ্চিত মনে করলেন। তিনি অনেক অস্থির হয়ে পড়লেন এবং বললেন, এটা স্থিরতার বিষয় নয়। আমি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে বিশাল সওয়াবের অধিকারী হওয়ার জন্যে এসেছি আর সা’দ রা. আমাকে মদ পানের অপরাধে এই সাওয়াব অর্জন থেকে বিরত রাখছে। আবু মিহজান রা. ঘরে বন্দি অবস্থায় বসে আছেন, বাইরে যুদ্ধ চলছে। ঘােড়ার খুরের আওয়ায ও তীর-তরবারির ঝনঝনানি তার কানে আসছে। তিনি বাইরে যুদ্ধের আওয়ায শুনে অস্থির হয়ে চিৎকার করতে লাগলেন।

এবং বলতে লাগলেন :

‘দুঃখ করার জন্যে তাে এটাই যথেষ্ট যে, ঘােড়া যুদ্ধের ময়দানে প্রবেশ করছে আর আমাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে ফেলে রাখা হয়েছে।’

‘আমি যখন দাঁড়াতে যাই তখন দেখি আমাকে লােহার লাগাম পড়িয়ে বদ্ধ করে রাখা হয়েছে এবং যুদ্ধের শােরগােলের কারণে আমার আহ্বানও কেউ শুনতে পায় না।

‘যুদ্ধ শুরু হতে দেখে পরিতাপে আমার অন্তর কেটে টুকরাে টুকরাে হয়ে যাচ্ছে; কিন্তু আমার আওয়ায শুনার মত কেউ নেই এবং আমাকে দেখার কেউ নেই।’

‘আমি দেখছি ইসলাম একজন সাহায্যকারীর সন্ধান করছে; কিন্তু সে যখন আমাকে ডাকছে আমি তার কোনাে সাহায্য করতে পারছি না। ‘আমি ছিলাম অনেক সম্পদের অধিকারী, এবং আমার অনেক ভাই ছিলাে; কিন্তু তারা সকলেই আমাকে একা ফেলে চলে গেছে; এখন আমার কোনাে ভাই নেই।

‘আমি আল্লাহর সাথে অঙ্গিকার করছি। আমি তার অঙ্গিকার কখনাে ভঙ্গ করবাে না। আমি যদি এখান থেকে মুক্ত হতে পারি তাহলে আর কখনই পানশালায় যাবাে না।’ (মদ পান করবাে না)

এরপর তিনি বাড়িতে থাকা লােকদের উদ্দেশ্যে বললেন, বাড়িতে কি কেউ আছেন? বাড়িতে কি কেউ আছেন? তিনি জানতেন যে, এই বাড়িতে একজন মহিলা আছেন আর তিনি সেনাপতি সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা.-এর স্ত্রী। সে সময় দীর্ঘদিন যুদ্ধ চলতে থাকত, কখনাে কখনাে তা পাঁচ-ছয় মাস পর্যন্ত চলত। তাই তাঁরা স্ত্রীদের নিয়ে যুদ্ধে বের হতেন এবং তাঁদেরকে যুদ্ধের পিছনে দূরে তাবুতে রেখে যেতেন। আবু মিহজান রা. জানতেন তাকে যে বাড়িটিতে আটকে রাখা হয়েছে। তাতে কেউ একজন আছে, তাই তিনি চিৎকার করে বলতে লাগলেন, বাড়িতে কি কেউ আছেন? বাড়িতে কি কেউ আছেন? তখন সা’দ রা.-এর স্ত্রী সালমা তার ডাকে সাড়া দিলেন। তিনি তাকে কী বললেন? এরপর কি তিনি যুদ্ধে শরিক হয়েছেন?

সালমা রা. এসে তাঁকে বললেন, তােমার কী প্রয়ােজন? আমাকে ডাকছাে কেনাে? সালমা মনে করেছিলেন সে পানি অথবা খাবার চাচ্ছে; কিন্তু না তিনি খাবার চান নি এবং পানিও চান নি। তিনি বললেন, হে সালমা! আমাকে মুক্ত করে দাও এবং আমাকে আমার তরবারি ও সা’দ রা.-এর ঘােডা ‘বালকা’কে দাও, কারণ তিনি জানতেন সা’দ রা. যুদ্ধে শরিক হননি; তিনি আহত, ঘােড়ার উপর বসে থাকতে পারেন না, তাই তিনি বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে দাড়িয়ে যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সেখান থেকেই প্রয়ােজনীয় দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন আর তার ঘােড়া বাড়ির পিছনে বাধা আবস্থায় আছে। সা’দ রা. যদিও সমস্যার কারণে যুদ্ধে শরিক হতে পারেননি কিন্তু নিন্দুকরা তাে আর ওজরগ্রস্ত ছিলেন না, তারা এই বসে থাকাকে ব্যঙ্গ কর বলেছে:

‘সে আমাদের কাছ থেকে যুদ্ধের অঙ্গিকার গ্রহণ করে আর অনেক নারী বিধবা হয়। অথচ সা’দের স্ত্রীর বিধবা হওয়ার কোনাে ভয় নেই।’ (অর্থাৎ সা’দ রা. তাে যুদ্ধই করে না, তাহলে সে নিহত হবে কীভাবে)

আবু মিহজান রা. বললেন, তুমি আমাকে মুক্ত করে দাও এবং আমাকে তরবারি ও বালকা দাও। আমি তােমাকে আল্লাহর নামে ওয়াদা করে বলছি আমি যদি নিরাপদ এবং বেঁচে থাকি তাহলে আবার ফিরে এসে স্বেচ্ছায় হাত-পা শিকলে দিয়ে বন্দিত্ব বরণ করবাে। আর যদি যুদ্ধে নিহত হই তাহলে তাে তােমরা আমার থেকে মুক্ত হয়ে গেলে। তিনি তখন তাঁকে মুক্ত করে দিলেন এবং তাঁকে তরবারি ও বালকা ঘােড়া দিলেন। সা’দ রা. এসবের কিছুই জানতেন না, কারণ তিনি তখন বাড়ির সাদের উপর থেকে যুদ্ধ পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত। এদিকে আবু মিহজান রা. মুক্ত হয়ে তারবরি হাতে নিয়ে ঘােড়ায় চড়লেন এবং যুদ্ধের দিকে ছুটে চললেন। তখন যুদ্ধের অবস্থা তুঙ্গে। ঘােড়া তাঁকে নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে ঢুকে পড়লাে এবং একবার ডানদিকে, একবার বাম দিকে, একবার সামনের দিকে, একবার পিছনের দিকে ছুটতে লাগল। আর তিনি ঘােড়ার উপর মজবুত পাথরের ন্যায় বসে কাফেরদের উপর তীব্র আক্রমণ চালালেন; তাদের হত্যা করছেন এবং তাদের দিক থেকে আসা আক্রমণগুলাে প্রতিহত করছেন। 

এদিকে দূর থেকে সা’দ রা, এই দৃশ্য দেখছেন আর অবাক হচ্ছেন। তিনি ভাবছেন এমন বীরত্বের সাথে কে যুদ্ধ করছে? তিনি মনে মনে বলছেন যােদ্ধাকে দেখে তাে আবু মিহজানের মত মনে হয় আর ঘােড়াকে দেখতে বালকার মত; কিন্তু এটা কী করে সম্ভব? বালকা ঘরের পিছনে বাঁধা আর আবু মিহজান ঘরের ভিতরে বন্দি অবস্থায় আছে? যদি ধরেও নেই এটা বালক, তাহলে আবু মিহজান কীভাবে এটার উপর উঠল? আর যদি মনে করি যে, এটা আবু মিহজান তাহলে সে বালকাকে পেল কোথায়? এভাবে সূর্য ডুবে গেল, উভয় পক্ষের সৈনিকরা আজকের মত যুদ্ধ বন্ধ করে নিজ নিজ তাবুতে ফিরে গেল। আবু মিহজান রা. ফিরে এলেন তার চেহারায় রক্তের দাগ, তাঁর কাপড় ঘেঁড়া, কারণ তিনি তাে যুদ্ধে গিয়েছেন, তিনি তাে আর বিবাহ করতে যান নি যে, কাপড় ও শরীর পরিচ্ছন্ন থাকবে। আবু মিহজান রা. ফিরে এসে বালকাকে যথাস্থানে বেঁধে নিজের পায়ে বেড়ি পরে বন্দি হলেন।

তখন সা’দ রা. সাদ থেকে নেমে ঘােড়ার কাছে গেলেন এবং দেখলেন, এর শরীর থেকে ঘাম ঝরছে, তিনি বুঝে গেলেন যে, এটাকে ব্যবহার করা হয়েছে। অতঃপর আবু মিহজান রা.-এর দিকে গেলেন আর তার মধ্যে যুদ্ধের ছাপ দেখতে পেলেন। তখন তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আবু মিহজান! তুমি কি যুদ্ধ করেছাে? তিনি বললেন, হাঁ আমি যুদ্ধ করেছি। আমি তােমার কাছে আল্লাহর শপথ করে ওয়াদা করছি যে, আমি আর কখনাে মদ পান করবাে না। সা’দ রা. তখন বললেন এবং আমিও তােমাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি যে, তুমি যদি মদ পান না করাে তাহলে আমিও তােমাকে আর শাস্তি দিবাে না।

এরপর আবু মিহজান রা, অনেক বড় মুজাহিদ হয়েছিলেন, কারণ শয়তান তাকে একথা বলে ধোঁকা দিয়ে দিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারেনি যে, আবু মিহজান! তুমি কীভাবে দীনের খেদমত করবে? এতে তােমার কী লাভ হবে? তুমি তাে মদখাের? তুমি একজন ফাসেক, পাপাচারী, মদ পান করাে, তাহলে কীভাবে তুমি দীনের খেদমত করবে? কীভাবে তুমি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করবে? অথচ তুমি একজন মদ্যপ! না শয়তান তাঁকে এভাবে ধোঁকা দিতে পারেনি। মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত দীনের কোনাে না কোনাে কাজে তার প্রয়ােজন অবশ্যই হবে।

এই দীন যেমন কামেল ও পরিপূর্ণ ইমানদারের মাধ্যমে উপকৃত হয়, ঠিক তেমনিভাবে একজন অসম্পূর্ণ ইমানদারের মাধ্যমেও উপকৃত হয়, অনুরূপভাবে একজন গুনাহগার ও পাপাচারী মুমিনের মাধ্যমেও উপকৃত হয় এবং কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমেও উপকৃত হয়। একজন কবিরা গুনাহে লিপ্ত; কিন্তু সে যদি একটা মসজিদ নির্মাণ করে তাহলে এতে সমস্যার কী আছে? হাঁ, সে গুনাহগার, কবিরা গুনাহে লিপ্ত; কিন্তু তার এই মসজিদ নির্মাণ তাে একটা পূণ্যের কাজ এবং সে তাে এই মসজিদ নির্মাণের মধ্যেমে তাঁর কবিরাহ গুনাহ থেকে তওবা করবে। এতে কী সমস্যা যে, একজন তােক কখনাে কখনাে সালাত ত্যাগ করে, তা সত্ত্বেও সে মানুষকে মদ পান করা থেকে বিরত থাকতে বলে এবং মানুষকে সালাত আদায়ের আদেশ করে সে বলে, হে অমুক! আল্লাহকে ভয় করাে সালাত আদায় করাে। সে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করলে সমস্যা কী? হােক-না দীন পালনের ক্ষেত্রে তার ঘাটতি আছে। এমনকি কেউ আছে যে, সে কখনাে ভুল করে নি, গুনাহের কাজ করে নি? এমনকি কেউ আছে যে, সারা জীবন শুধু নেকির কাজই করেছি?

মানুষ গুনাহে লিপ্ত হলেও তাকে সর্বদা এটা স্মরণ রাখতে হবে যে, এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাকেও উদ্দেশ্য করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: আপন পালনকর্তার পথের প্রতি আহ্বান করুন জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে এবং উত্তমরূপে উপদেশ শুনিয়ে। [সুরা নাহল, আয়াত : ১২৫]

এবং এ আয়াতেও আল্লাহ তাআলা তাকে উদ্দেশ্য করেছেন। তিনি বলেন: যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সকাজ করে এবং বলে, আমি একজন আজ্ঞাবহ মুসলিম, তার অপেক্ষা উত্তম কথা আর কার হতে পারে?” [সুরা ফুসসিলাত, আয়াত : ৩৩]

আমরা যতই গুনাহগার হই না কেনাে আল্লাহ তাআলার সকল আয়াতের উদ্দিষ্ট আমরাই। আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত মুসলমান থাকবাে আমরাই তার সকল আয়াতের উদ্দিষ্ট। এবং আমরা চেষ্টা করবাে তিনি যেনাে আমাদের একটা ভালােকাজের মাধ্যমে অন্য একটা খারাপ কাজ মুছে দেন।

এক লােক হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহর নিকট আসলে হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ তাকে প্রশ্ন করলেন, হে লােক! তুমি কি সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করাে? সে বললাে, না। তিনি বললেন, কেননা? সে বললাে, আমার ভয় হয় যে, আমি মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবাে আর আমি নিজেই তা করবাে না এবং আমি মানুষকে অসৎ কাজের নিষেধ করবাে আর আমি নিজেই তাতে লিপ্ত থাকবাে, কারণ আমি অনেক ভুল করি, আমি অনেক গুনাহে লিপ্ত। তখন হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ তাকে বললেন, সুবহানাল্লাহ! শয়তান তাে এটাই চায় যে, সে তােমাদের এভাবেই ধোকা দিবে। হে লােক! আমাদের মধ্যে কে আছে যে গুনাহ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত? যে কোনাে একটা বিতর্কিত কাজেও লিপ্ত নয়? তা সত্ত্বেও তাে আমরা মানুষকে ওয়াজ-নসিহত করি, কে জানে হয়তাে এর মাধ্যমে একজন লােক মুক্তি পেয়ে যাবে? সুতরাং শয়তান যেনাে তােমাকে নিয়ে আর খেলা করতে না পারে এবং তােমাকে ধোকা দিতে সফল না হয়। এমকি কেউ যদি গুনাহ ও পাপাচারের ঘর থেকেও বের হয় এবং তাতে কোনাে ভিক্ষুক তার কাছে হাত পাতে তাহলে তখনও যেনাে সে তাকে সদকা করে। তুমি তাে এর বিনিময়ে প্রতিদান পাবে। তমি বলবে,শায়খ! আমি তাে এই মাত্র মদ পান করেছি অথবা কোনাে অশ্লীল কাজ করার কারণে আমি এখনও তাে নাপাক। আরে ভাই এটা একটা কাজ আর ওটা আরেকটা কাজ। তুমি গুনাহের কাজ করেছাে, এর জন্যে আল্লাহ তাআলা তােমার হিসেব নিবেন। অনুরূপভাবে তুমি কোনাে নেকির কাজ করলে তার হিসেবও আল্লাহ তাআলা করবেন।

নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনাে যুদ্ধে বেরুতেন তখন তিনি কিন্তু একথা বলে ঘােষণা দিতেন না যে, আমাদের সাথে কেবল পুত-পবিত্র লােকেরাই বেরুতে পারবে, যারা কখনাে কোনাে গুনাহে লিপ্ত হয়নি কেবল তারাই আমাদের সাথে যেতে পারবে। না, তিনি কখনই এমন আদেশ দেননি, কারণ তার সাথে যারা জিহাদে বেরুতাে তারা কেউ ফেরেশতা ছিলাে না যে, তারা কখনাে আল্লাহর কোনাে আদেশের অমান্য করবে না বরং সর্বদা তাঁর আদেশ মেনে চলবে। বরং নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতেন যে, তার সাথে যারা যুদ্ধে যাচ্ছে তারা হল আদম সন্তান, আর আদম সন্তান ভুল করবেই। তাই তাে তিনি বলেন : ‘প্রতিটি আদম সন্তানই ভুল-অন্যায়কারী আর সবচে ভাল অন্যায়কারী হল সে যে তাওবাকারী ও অনুপপ্ত।

সুতরাং এসাে আমার সকলেই একমত হই যে, আমাদের মধ্যে যারা মাদ্রাসায় আছে, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে এবং যত বন্ধু আছে, হােক তারা সােশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অথবা কোনাে প্রতিষ্ঠানে একসাথে থাকার কারণে বন্ধুত্ব হয়েছে অথবা কোনাে এক সফরে গিয়ে তার সাথে পরিচয় হয়েছে অথবা অন্য কোনােভাবে, আমারা যে যতটুকু পারি নেককাজ করবাে এবং কাউকে কোনাে অন্যায় কাজ করতে দেখলে তাকে বাধা দিবাে, হােক-না আমার মধ্যে কোনাে একটা বিষয়ে ঘাটতি আছে, আমি কোনাে একটা অপরাধের সাথে জড়িয়ে আছি; কিন্তু এটা যেনাে আমাকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ থেকে বিরত রাখতে না পারে। অনুরূপভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে বা বাজারে অথবা অন্য কোনাে স্থানে সকল বােনদের বলছি, যখন আপনি বাজারে যাচ্ছেন আপনি দেখলেন, আপনারই কোনাে সহপাঠী বা পরিচিত কেউ কোনাে একটা খারাপ কাজে লিপ্ত হয়েছে, তাহলে আপনি তাকে তা থেকে নিষেধ করবেন, এমনকি আপনি যদি হিজাববিহীন বেপর্দায়ও থাকেন এবং আপনার মধ্যে কোনাে গুনাহের বিষয়ও থাকে তবুও আপনি তাকে তা থেকে নিষেধ করবেন।

আপনি তাকে বলবেন হে বােন! এটা ঠিক যে আমি এখন বেপর্দায় আছি, এটা একটা গুনাহের কাজ; কিন্তু তুমি যা করছাে এটা অন্যায়, সুতরাং তুমি এ কাজ থেকে বিরত থাক। অথবা আপনি কোনাে বােনকে দেখলেন যে, সে সালাত আদায় করছে না তখন আপনি তাকে সালাত আদায় করতে বলবেন, আপনি তাকে বলবেন বােন! তুমি পর্দা করাে না ঠিক আছে, তবে সালাতটা তাে কমপক্ষে আদায় করাে, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘মুসলমান এবং কাফের-মুশরিকদের মাঝে পার্থক্য হল সালাত ছেড়ে করা।’

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : ‘আমাদের মাঝে এবং তাদের মাঝে যে চুক্তি রয়েছে তাহল সালাত, সুতরাং যে সালাত ত্যাগ করল সে কুফরি করলাে।

হাঁ, আপনি যদি বেপর্দাও থাকেন তাহলে আপনি কোনাে সালাত ত্যাগকারীকে সালাতের আদেশ দিলে আপনার কি কোনাে ক্ষতি হবে? আপনি অবৈধ কাজে লিপ্ত কাউকে অশ্লীল কাজ থেকে বিরত হতে বললে আপনার কি কোনাে ক্ষতি হয়ে যাবে? আমরা যখন মানুষকে সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করতে থাকবাে এবং ভাববাে যে, পুরাে কুরআনে কারিম আল্লাহ তাআলা আমাকেই সম্বােধন করেছেন, তাহলে আবার সাহাবাদের যুগ ফিরে আসবে।

আবু মিহজান রা. যদিও একটা ভুলের মধ্যে ছিলেন এবং একটা গুনাহ করতেন, তা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে কখনাে খাটো করে দেখেন নি। তিনি বলেছেন, হাঁ আমি একটা ভুলে পতিত, আমার দ্বারা একটা কবিরা গুনাহ হয়ে যায় এবং একটা বিষয়ে শয়তান আমাকে নিয়ে খেলা করে; কিন্তু আমি কিছুতেই শয়তানকে এই সুযােগ দিব না যে, শয়তান আমার উপর এর চেয়েও বেশি প্রভাব বিস্তার করুক। আমাকে আরাে বেশি গুনাহের কাজে লিপ্ত করুক। হা এটা সত্য যে, শয়তান আমাকে একবার ধোকা দিয়েছে, আমি মদ পান করেছি, একবার ধোকা খেয়েছি; কিন্তু আমি তাকে এর চেয়ে বেশি সুযােগ দিব না, আমি জিহাদ থেকে বিরত থাকবাে বরং আমি জিহাদ করবাে এবং দীনের সাহায্য করবাে। আর একারণেই দীনের বিজয় হয়েছে। এমন অসংখ্য মানুষের মাধ্যমে দীনের বিজয় হবে শয়তান যাদেরকে ধোকা দিয়ে বিচ্ছিন্ন করতে পারে নি।

আমি আল্লাহ তাআলার কাছে এই প্রার্থনা করি যে, তিনি আমাদের এবং আপনাদের ভঁর আনুগত্যের কাজে ব্যবহার করুন। এবং আমরা যেখানেই থাকি না কেনাে তিনি আমাদেরকে তার কল্যাণ ও বরকতের। সাথে রাখুন। আমিন!!

উৎস: আত্মবিশ্বাসপৃষ্ঠা: ১৮১ – ১৯৪

Print Friendly, PDF & Email


'আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক'
প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে
আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ, আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। "কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা" [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪]

দ্বীনী খিদমায় অংশ নিন

আপনার মন্তব্য লিখুন